• জাতীয়
  • সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ১৩ আমলার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ

সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ১৩ আমলার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ১৩ আমলার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ

বিশাল ‘স্ক্যান্ডাল’! ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ। পালাবার আশঙ্কা, তদন্তের স্বার্থে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দায়ের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সরকারের ১৩ জন প্রাক্তন সচিবসহ মোট ১৪ জনের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশের উচ্চপদস্থ আমলা এবং একজন প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রীর বিদেশে গমনের পথ আপাতত রুদ্ধ হলো।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই স্পর্শকাতর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যাঁদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা: সাবেক মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আমলারা

ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এই মামলায় উল্লেখযোগ্য অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:

১. সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ২. সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম ৩. জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব কামাল উদ্দীন আহমদ ৪. সাবেক বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ৫. ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল জলিল ৬. পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. জাফর আহমেদ খান ৭. সাবেক সিএএজি ও সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ৮. সংসদ বিষয়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক ৯. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ ১০. রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোফাজ্জেল হোসেন ১১. অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম ১২. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া ১৩. জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সাবেক সচিব এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম

কেন এই নিষেধাজ্ঞা? দুদকের বক্তব্য

এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম আদালতে এই আবেদনটি দাখিল করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, আসামিরা সপরিবারে দেশত্যাগ করে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে গেলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা গুরুতরভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলস্বরূপ, মামলাটি সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা একান্ত প্রয়োজন বলে দুদক মনে করে।

কী সেই মামলা? আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ

গত ১১ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার মূল অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প’-এর ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

মামলার সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তবে এই জমি পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীদের জন্য ৯৯ বছরের ‘লিজে’ (Lease) আবাসন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়। দুদকের নথি অনুযায়ী, ‘ভূমি অধিগ্রহণ আইন-২০১৭’-এর ১৯(১) ধারা অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়াই এই ‘অ্যাকটিভিটি’ (Activity) সম্পন্ন করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই আইনবহির্ভূত।

এছাড়া, ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৬’-এর ধারা ১৩(২) অনুযায়ী শুধুমাত্র অস্থায়ী ইজারা প্রদানের বিধান থাকলেও কর্তৃপক্ষের ১০৬ ও ১০৭তম বোর্ড সভায় দীর্ঘমেয়াদি লিজ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। এই ‘পলিসি’ (Policy) প্রণয়নে সরকারি গেজেট প্রকাশের বাধ্যতামূলক শর্তও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দুদক তার নথিতে অভিযোগ করেছে।

দুদকের দাবি, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় আইনবহির্ভূত নীতিমালা প্রণয়ন করে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এই মামলা দেশের উচ্চ-পর্যায়ের প্রশাসনের অভ্যন্তরে ‘দুর্নীতির’ (Corruption) বিরুদ্ধে দুদকের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করছে।

Tags: travel ban dudok anti corruption dhaka elevated expressway land scam obaidaul quader former secretary lease policy