• মতামত
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান শিক্ষকদের, অসঙ্গতি ও রমজানের বাস্তবতা তুলে ধরল সংগঠন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান শিক্ষকদের, অসঙ্গতি ও রমজানের বাস্তবতা তুলে ধরল সংগঠন

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ অসঙ্গতিপূর্ণ ছুটির তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং রমজান মাসে রোজা রেখে পাঠদানের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছে।

মতামত ১ মিনিট পড়া
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান শিক্ষকদের, অসঙ্গতি ও রমজানের বাস্তবতা তুলে ধরল সংগঠন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি সংগঠন সম্প্রতি প্রকাশিত বাৎসরিক ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে। 'প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ'-এর মতে, তালিকায় কিছু অসঙ্গতি রয়েছে এবং রমজান মাসে রোজা রেখে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনা করে ছুটি পুনর্নির্ধারণ করা উচিত।

প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি ও বিজ্ঞপ্তির মূলকথা

'প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ' নামের সংগঠনটি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাবি জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খায়রুন নাহার লিপি এবং মু. মাহবুবর রহমান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রওশন আরা পলি স্বাক্ষরিত একটি বাৎসরিক ছুটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদি এই তালিকা সত্য হয়, তবে এতে কিছু সুস্পষ্ট অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অনিচ্ছাকৃত ভুল বা প্রিন্টিং জটিলতা হতে পারে।

ছুটির তালিকায় অসঙ্গতি

সংগঠনটি অতীতে শুক্র ও শনিবারকে ছুটির তালিকায় 'শূন্য দিন' হিসেবে গণনার রীতি উল্লেখ করেছে। বর্তমান তালিকাতেও ২, ৬, ১৩, ২০, ২২ ও ২৩ নম্বর ক্রমিকের ছুটিতে শুক্র ও শনিবারকে শূন্য দিন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কিন্তু ৮ নম্বর ক্রমিকে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটির মধ্যে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে গণনা করা হয়েছে। একইভাবে, ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত ১০ দিনের ছুটির মধ্যেও শুক্র ও শনিবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে, ৮ নম্বর ক্রমিকে ৪ দিন এবং ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২ দিন—মোট ৬ দিন শুক্র ও শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা পুরো তালিকা জুড়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই অসামঞ্জস্যের কারণে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

রমজান মাসে পাঠদানের বাস্তবতা

সংগঠনটি ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টিও তুলে ধরেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রমজান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র মাস এবং এই সময়ে সিয়াম পালন করে শিক্ষকদের পক্ষে শ্রেণিপাঠদান অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অনেক প্রাথমিক শিক্ষার্থীও রোজা রেখে বিদ্যালয়ে আসে, যা তাদের কোমল শরীরের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক নারী হওয়ায় বিদ্যালয়ের কাজ শেষে বাসায় ফিরে ইফতার প্রস্তুতির কাজটিও তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান

এই বাস্তব ও ধর্মীয় বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ছুটির তালিকাটি সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা চান যে তালিকাটি বাস্তবতা ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হোক।

Tags: bangladesh education ministry ramadan teachers primary school holiday list correction