এক যুগ পর ঢাকায় রিয়া
ফারজানা রিয়া চৌধুরী একসময় বাংলাদেশের টেলিভিশন এবং বিজ্ঞাপনের পর্দায় এক পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। মডেলিং, নৃত্যশিল্পী এবং অভিনেত্রী—এই তিনটি ক্ষেত্রেই তিনি সমান জনপ্রিয় ছিলেন। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকাকালীন তিনি হঠাৎই দেশের শোবিজ জগৎ ছেড়ে চলে যান। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। বর্তমানে স্বল্প সময়ের জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।
সহকর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া আড্ডা
দীর্ঘদিন পর দেশে আসায় গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তার সহকর্মী ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে রাজধানীর সোবহানবাগের একটি রেস্তোরাঁয় এক ঘরোয়া আড্ডার আয়োজন করা হয়। এই পুনর্মিলনীতে উপস্থিত ছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান, মডেল সাদিয়া ইসলাম মৌ, বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার বিপ্লব সাহা এবং নৃত্যশিল্পী তান্না খান। প্রিয় তারকার উপস্থিতিতে আড্ডাটি যেন নব্বইয়ের দশকের এক নস্টালজিক স্মৃতিচারণায় রূপ নেয়।
দেশে ফেরা ওমরাহ পালন শেষে
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন ফারজানা রিয়া। তবে বাংলাদেশে আসার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। বর্তমানে স্বামী, সন্তান ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই তারকা আগামী ৯ জানুয়ারি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন।
শোবিজে রিয়ার অনন্য পথচলা
১৯৯২ সালে ‘কোকোলা বিস্কুট’-এর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মিডিয়াতে ফারজানা রিয়ার যাত্রা শুরু হয়। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি ছিল তার নিবিড় সখ্য। তিনি বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে নৃত্যশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া বাংলাভিশনের রিয়েলিটি শো ‘নাচো, বাংলাদেশ নাচো’-এর বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন। মডেলিংয়ে তার উপস্থিতি ছিল অনন্য। পেইলাক পেইন্টস, হাঁস মার্কা নারিকেল তেল, মেরিল ভেসলিনসহ একাধিক বিজ্ঞাপনে তিনি দর্শকদের মন জয় করেন। বিশেষ করে মডেল পল্লবের সঙ্গে তাঁর জনপ্রিয় জিঙ্গেল ‘কী মিষ্টি মিষ্টি অপলক দৃষ্টি…’ আজও নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের স্মৃতিতে অমলিন। অভিনয়েও তার দক্ষতার ছাপ দেখা যায়। তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘খেলা খেলা সারাবেলা’, ‘মেট্রোপলিটন’, ‘কাগজের নৌকা’ ও ‘নেকি’। তিনি বাংলাভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘সৌন্দর্য কথা’-এর উপস্থাপনাও করেছেন।
প্রবাসে নিভৃত জীবন
২০১৩ সালের মার্চ মাসে আমেরিকা প্রবাসী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইভান চৌধুরীকে বিয়ে করার পর ফারজানা রিয়া শোবিজ থেকে পুরোপুরি নিজেকে গুটিয়ে নেন। এরপর থেকে প্রবাসেই কাটছে তার নিভৃত জীবন। এক সময়ের পর্দা কাঁপানো এই তারকা আজ আড়ালে থাকলেও, তার ভক্তদের হৃদয়ে তার স্থান আজও অটুট।