• রাজনীতি
  • ‘নির্বাচনে প্রশাসনের সামান্য পক্ষপাতিত্বও মেনে নেওয়া হবে না’: আইনশৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মামুনুল হকের কড়া হুঁশিয়ারি

‘নির্বাচনে প্রশাসনের সামান্য পক্ষপাতিত্বও মেনে নেওয়া হবে না’: আইনশৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মামুনুল হকের কড়া হুঁশিয়ারি

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘নির্বাচনে প্রশাসনের সামান্য পক্ষপাতিত্বও মেনে নেওয়া হবে না’: আইনশৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মামুনুল হকের কড়া হুঁশিয়ারি

সুষ্ঠু ভোটের জন্য ‘দৃশ্যমান উন্নয়ন’ ও আস্থার পরিবেশ তৈরির দাবি; জামায়াতসহ ৮ দলের সঙ্গে সমঝোতা চললেও ‘রিকশা’ প্রতীকে অনড় খেলাফত মজলিস।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। এই আবহে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘দৃশ্যমান ও কার্যকর’ উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ভোটার যেন ভয়ভীতি বা চাপের মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের দাবি

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়, বরং মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান হতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনের সামান্য পক্ষপাতিত্ব বা Administrative Bias জনগণের ভোটাধিকারের আস্থাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে (EC) প্রমাণ করতে হবে যে, তারা সত্যিকার অর্থেই একটি Level Playing Field তৈরি করতে সক্ষম।”

তিনি আরও যোগ করেন, ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ ফিরিয়ে আনতে চিহ্নিত অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করা অপরিহার্য। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও Accountability বা দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য ও ৮ দলের সমঝোতা

নির্বাচনী কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে মামুনুল হক জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ৮টি ইসলামী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ‘Political Alignment’ বা রাজনৈতিক মেরুকরণ জাতীয় স্বার্থেই করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে বৃহত্তর ঐক্যের কথা বললেও সংগঠনের নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি অনড়। তিনি বলেন, “সমঝোতার ধরন যাই হোক না কেন, সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভিত্তি করে আমরা একটি ন্যূনতম লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। নির্দিষ্ট কিছু আসনে আমরা অবশ্যই আমাদের নিজস্ব ‘রিকশা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হব।”

নির্বাচন কমিশনের প্রতি কঠোর বার্তা

মতবিনিময় সভায় মাওলানা মামুনুল হক নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “জনগণ দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে যে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখছে, তা বাস্তবায়নের চাবিকাঠি এখন কমিশনের হাতে। নিরপেক্ষতা ও দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাবে নেই।”

সভায় উপস্থিত প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। বিশেষ করে প্রশাসনিক জটিলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। মাওলানা মামুনুল হক প্রার্থীদের ধৈর্য ধরে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর নির্দেশনা দেন।

নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মুফতি সাঈদ নূর এবং প্রখ্যাত আলেম মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরী।

বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এবং বলেন, জনগণের রায় ছিনিয়ে নেওয়ার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। সংগঠনের নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার এবং গণমুখী কর্মসূচি নিয়ে দ্রুতই ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেন প্রার্থীরা।

Tags: national election election commission political alliance political stability law and order jamaat islami khelafat majlis mamunul haque rickshaw symbol neutral polls