ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট ক্লাব চেলসি তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এক সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, অপেক্ষাকৃত তরুণ কোচ লিয়াম রোজেনিয়রকে আগামী ২০৩২ সাল পর্যন্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছর ছয় মাসের এই দীর্ঘ চুক্তির মাধ্যমে ব্লুজরা তাদের অস্থিতিশীল কোচিং ক্যারিয়ারে ইতি টেনে একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা শুরু করল।
দীর্ঘমেয়াদী প্রজেক্ট ও রোজেনিয়র মাত্র ৪১ বছর বয়সী রোজেনিয়র এর আগে ফ্রান্সের লিগ ওয়ানে স্ট্রাসবার্গের কোচ হিসেবে দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। গত মৌসুমে তাঁর অধীনে দলটি পয়েন্ট টেবিলের সপ্তম স্থানে থেকে লিগ শেষ করে। যদিও ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাব ফুটবলে তাঁর অভিজ্ঞতা খুব বেশি নয়, তবুও হাল সিটি ও ডার্বি কাউন্টির মতো ক্লাবগুলোতে তাঁর কাজের ধরণ চেলসি মালিকপক্ষকে মুগ্ধ করেছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ মনে করছে, রোজেনিয়রেরুণ রক্ত ও আধুনিক ফুটবল দর্শন চেলসিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
মারসেস্কার বিদায় ও ব্যর্থতা রোজেনিয়র দায়িত্ব নিচ্ছেন ইতালিয়ান কোচ এনজো মারসেস্কার স্থলাভিষিক্ত হয়ে। মারসেস্কার অধীনে চেলসি ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছিল। বিশেষ করে প্রিমিয়ার লিগের শেষ সাত ম্যাচে মাত্র একটি জয় আসায় এবং ক্লাবের অভ্যন্তরীণ কিছু অস্থিরতার কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বিদায় নিতে হয়। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ড্র ম্যাচের পর থেকেই চেলসি নতুন কোচের সন্ধানে ছিল।
রোজেনিয়রের দর্শন ও লক্ষ্য চেলসিতে যোগ দিয়ে লিয়াম রোজেনিয়র তাঁর বিবৃতিতে বলেন, "এই ক্লাবের গৌরবময় ইতিহাস এবং জয়ের সংস্কৃতি আমাকে বরাবরই আকর্ষণ করেছে। আমার প্রধান দায়িত্ব হবে চেলসির সেই পরিচয় ফিরিয়ে আনা এবং এমন একটি দল গঠন করা যারা প্রতিটি ম্যাচে লড়াকু মানসিকতা দেখাবে।" তিনি আরও জানান যে, দলগত ঐক্য, কঠোর পরিশ্রম এবং একে অপরের প্রতি আস্থাই হবে তাঁর কোচিং দর্শনের মূল ভিত্তি।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে পঞ্চম স্থানে থাকা চেলসির ওপর সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ আকাশচুম্বী। ঘনঘন কোচ বদলের পুরনো অপবাদ ঘুচিয়ে বোর্ড এবার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বিশ্বাস রাখছে। তবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এই 'রোজেনিয়র যুগ' কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা সময়ই বলে দেবে। প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে দলটিকে শীর্ষ চারে ফিরিয়ে আনাই হবে তরুণ এই কোচের প্রথম বড় পরীক্ষা।