যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ফিলিস্তিনি দূতাবাস। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য এক বিশাল বিজয় এবং ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পতাকা উত্তোলন ও আবেগঘন মুহূর্ত লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দূতাবাসের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হুসাম জমলত এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পতাকা উত্তোলনের সময় রাষ্ট্রদূত হুসাম জমলত আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, "এটি কেবল একটি দাপ্তরিক উদ্বোধন নয়, এটি আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের এক অনন্য স্বীকৃতি। আজ আমরা লন্ডনের বুকে আমাদের অধিকারের পতাকা উড়িয়েছি।"
কূটনৈতিক মর্যাদার উত্তরণ এতদিন লন্ডনে ফিলিস্তিনি মিশনটি সীমিত পরিসরে ‘ফিলিস্তিনি মিশন’ হিসেবে পরিচালিত হতো। তবে সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের ফলে মিশনটিকে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্রিটেনের মতো প্রভাবশালী দেশে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বৈশ্বিক স্বীকৃতির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত রাষ্ট্রদূত জানান, এই দূতাবাস কেবল ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব করবে না, বরং ব্রিটেন ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে কাজ করবে। বিশেষ করে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই দূতাবাস সেতু হিসেবে কাজ করবে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনেও এই দূতাবাস অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈশ্বিক ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া লন্ডনে ফিলিস্তিনি দূতাবাস উদ্বোধনের খবরকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনপন্থী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তারা মনে করছে, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য একটি বড় ধরনের নৈতিক বিজয়। দূতাবাসের বাইরে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনি সমর্থকরা পতাকা নাড়িয়ে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে উদযাপন করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, ব্রিটেনের এই পদক্ষেপ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোকেও ফিলিস্তিনকে পূর্ণ কূটনৈতিক মর্যাদা প্রদানে অনুপ্রাণিত করবে।