সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে জনপদ, আর তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উত্তরের হিমেল হাওয়ার দাপট। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, শীতের আসল রূপ দেখা এখনও বাকি। আগামী কয়েক দিনে দেশে চলমান শৈত্যপ্রবাহ (Cold Wave) আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে আগামী শনি (১০ জানুয়ারি) ও রোববার (১১ জানুয়ারি) তাপমাত্রা কমে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনি ও রবিবারে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক (Climate Researcher) মোস্তফা কামাল পলাশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ (Satellite) থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ভিত্তিক ডাটা বিশ্লেষণ করে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক পূর্বাভাসে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকেই শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।
গবেষকের মতে, আগামী শনি ও রবিবার হবে চলতি মৌসুমের শীতলতম দিন। এই দুই দিন দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে পারদ নামতে পারে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। যা একটি 'তীব্র শৈত্যপ্রবাহ' (Severe Cold Wave) হিসেবে চিহ্নিত হয়।
বর্তমানে তাপমাত্রার চিত্র ও ভৌগোলিক প্রভাব
বুধবার সকালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে অন্তত পাঁচটির ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী জেলা বর্তমানে দেশের শীতলতম স্থান হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জে ৭ ডিগ্রি, যশোরে ৭.৪ ডিগ্রি এবং হিমালয়ের পাদদেশের জেলা পঞ্চগড়ে ৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তীব্র শীতের নেপথ্যে আবহাওয়া বিশ্লেষণ
আবহাওয়াবিদদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আধুনিক আবহাওয়ার মডেল (Weather Model) অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে জেট স্ট্রিমের অবস্থান ও সাইবেরীয় উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে এই শৈত্যপ্রবাহ শক্তিশালী হচ্ছে। ডাটা অ্যানালাইসিস (Data Analysis) বলছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রিতে নেমে আসবে। শৈত্যপ্রবাহের এই ধারা অব্যাহত থাকলে কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই তীব্র শীতের সময় শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে যেখানে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করা হয়, সেখানে অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তীব্র কুয়াশায় দৃশ্যমানতা (Visibility) কমে যাওয়ায় সড়ক ও নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ শীতের এই দাপট অব্যাহত থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দুই দিনে তাপমাত্রার পারদ কতটা নিচে নামে।