• জাতীয়
  • ৮ বছর পর মার্কিন ভুট্টার বড় চালান বাংলাদেশে: পোলট্রি ও ফিড শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

৮ বছর পর মার্কিন ভুট্টার বড় চালান বাংলাদেশে: পোলট্রি ও ফিড শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
৮ বছর পর মার্কিন ভুট্টার বড় চালান বাংলাদেশে: পোলট্রি ও ফিড শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ল ৫৭ হাজার টনের বেশি উন্নতমানের হলুদ ভুট্টা; পশুখাদ্যের মানোন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘ বিরতির পর সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ পুনঃস্থাপন।

দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের ভুট্টার একটি বিশাল চালান বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) চট্টগ্রাম বন্দরে লঙ্গর করা এই চালানটি দেশের কৃষি ও পশুখাদ্য খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এই বাণিজ্যিক সরবরাহকে স্বাগত জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে অভিহিত করেছে।

নর্থ ডাকোটা থেকে চট্টগ্রাম: এক বিশাল লজিস্টিক অপারেশন

এবারের চালানে রয়েছে মোট ৫৭ হাজার ৮৫৫ টন উন্নতমানের হলুদ ভুট্টা। ২০২৫-২৬ ফসল মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা এবং মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে উৎপাদিত এই শস্যগুলো ওয়াশিংটনের ভ্যাঙ্কুভার বন্দর থেকে জাহাজে করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। বৈশ্বিক ‘Supply Chain’ বা সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে এই বিশাল আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

পোলট্রি ও ফিড শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব

২০১৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভুট্টার সরাসরি বাণিজ্য শুরু হলো। এর ফলে বাংলাদেশের ‘Poultry Industry’ এবং পশুখাদ্য প্রস্তুতকারকদের জন্য ‘Animal Nutrition’-এর একটি নির্ভরযোগ্য ও প্রিমিয়াম উৎস নিশ্চিত হলো। উচ্চমানের এই ভুট্টা ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের ডেইরি ও পোলট্রি খাতের উৎপাদনশীলতা এবং পুষ্টিমান বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

চালানটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করতে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে যান যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট। এ সময় তাঁর সাথে ছিল বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পশুখাদ্য উৎপাদনকারী তিন প্রতিষ্ঠান— নাহার এগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী জোট। এই ‘Consortium’ বা জোটবদ্ধ ক্রয় প্রক্রিয়া বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সক্ষমতাকেই তুলে ধরছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শস্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘United Grain Corporation’ (UGC) এই সফল সরবরাহের অংশ হতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “গত আট বছরে বাংলাদেশে মার্কিন ভুট্টার প্রথম চালানের অংশীদার হতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। আমরা আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের ‘Market Demand’ বা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত শস্য সরবরাহ করতে এবং ‘Quality Control’ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই পণ্য আমদানির ফলে মাঝপথে তৃতীয় পক্ষের খরচ হ্রাস পাবে, যা স্থানীয় বাজারে পশুখাদ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজার থেকে সরাসরি আমদানি বাংলাদেশের ‘Food Security’ বা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দীর্ঘ বিরতির পর এই পুনঃসংযোগ দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের গভীরতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাকেই ইঙ্গিত করে।

সারসংক্ষেপ:

আট বছর পর ৫৭ হাজার টন মার্কিন ভুট্টার এই আগমন কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের উদীয়মান পোলট্রি ও ফিড শিল্পের জন্য একটি বড় কৌশলগত বিজয়। উন্নতমানের এই শস্য দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে এবং পশুখাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।

Tags: us embassy supply chain chattogram port us corn bangladesh import poultry feed animal nutrition agro business nahar agro paragon group