• খেলা
  • বিপিএলে চট্টগ্রামের রেকর্ড রান পাহাড়: ১৯৩ ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় রয়্যালসরা, বিপাকে সিলেট

বিপিএলে চট্টগ্রামের রেকর্ড রান পাহাড়: ১৯৩ ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় রয়্যালসরা, বিপাকে সিলেট

খেলা ১ মিনিট পড়া
বিপিএলে চট্টগ্রামের রেকর্ড রান পাহাড়: ১৯৩ ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় রয়্যালসরা, বিপাকে সিলেট

রজিংটন-জয়ের আগ্রাসী ব্যাটিং আর শেষ দিকে ক্যাপ্টেন শেখ মেহেদীর টর্নেডো ইনিংসে ১৯৯ রানের বিশাল লক্ষ্য পেল সিলেট টাইটান্স; প্রতিশোধের ম্যাচে পাহাড়সম চাপের মুখে স্বাগতিকরা।

চলমান বিপিএলে রান বন্যার সাক্ষী হলো সিলেট। অল্পের জন্য দুইশ’র ঘর ছোঁয়া না হলেও, বর্তমান আসরের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্সের বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিম রোলার চালিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান সংগ্রহ করেছে চট্টগ্রাম। এর আগে আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ১৯২ রানের সংগ্রহ ছিল সর্বোচ্চ, যা আজ টপকে গেল বন্দরনগরীর দলটি।

উদ্বোধনী তাণ্ডব ও রজিংটন-জয়ের শক্ত ভিত

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সিলেট টাইটান্সের অধিনায়ক। কিন্তু চট্টগ্রামের ওপেনারদের আক্রমণাত্মক অ্যাপ্রোচ শুরুতেই সেই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে। মোহাম্মদ নাঈম ১৫ বলে ২১ রান করে বিদায় নিলেও দ্বিতীয় উইকেটে হাল ধরেন অ্যাডাম রজিংটন ও মাহমুদুল হাসান জয়। এই জুটি মাত্র কয়েক ওভারেই ৬০ রান যোগ করে দলের স্কোরবোর্ডকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়।

ইংলিশ উইকেটরক্ষক ব্যাটার অ্যাডাম রজিংটন ৩৮ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৯ রান করে আউট হন। মাত্র ১ রানের জন্য হাফ-সেঞ্চুরি মিস করলেও তার ‘Strike Rate’ ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে, মাহমুদুল হাসান জয় আরও বেশি বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন। মাত্র ২১ বলে ৩টি চার ও ৪টি বিশাল ছক্কায় তিনি ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন। এই দুই টপ-অর্ডার ব্যাটারের বিদায়ে রানের গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও মিডল অর্ডারে হাসান নাওয়াজ (২০ বলে ২৫ রান) সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।

ক্যাপ্টেনস নক ও ডেথ ওভারের ধামাকা

ইনিংসের শেষ দিকে সত্যিকারের ‘Power Hitting’-এর প্রদর্শনী দেখান অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। আসিফ আলী ৮ বলে ১৩ রান করে দ্রুত ফিরলে হাল ধরেন মেহেদী। মাত্র ১৩ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৩৩ রানের এক অপরাজিত ক্যামিও খেলেন তিনি। তার এই ঝড়ো ব্যাটিংই মূলত চট্টগ্রামকে আসরের রেকর্ড সংগ্রহের চূড়ায় পৌঁছে দেয়। অন্য প্রান্তে আমের জামাল ৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

সিলেটের বোলারদের মিশ্র দিন

সিলেটের বোলারদের মধ্যে রুয়েল মিয়া সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিলেও ৪ ওভারে খরচ করেছেন ৪১ রান। তবে সবচেয়ে বেশি খরুচে ছিলেন জাতীয় দলের পেসার খালেদ আহমেদ; কোনো উইকেট না পেয়েই তিনি বিলিয়ে দিয়েছেন ৫৫ রান। স্বাগতিকদের পক্ষে একমাত্র মিতব্যয়ী বোলার ছিলেন ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলী। ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে তিনি ১ উইকেট শিকার করেন। আফগান তারকা আজমতুল্লাহ ওমরজাই ১ উইকেট নিতে খরচ করেন ৪৭ রান।

প্রতিশোধের লক্ষ্য যখন পাহাড়সম

বিপিএলের আগের লড়াইয়ে চট্টগ্রামের কাছে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল সিলেট। আজকের ম্যাচটি ছিল তাদের জন্য সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ। তবে ১৯৯ রানের বিশাল ‘Target’ তাড়া করা সিলেটের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপিএলের ইতিহাসে এতো বড় রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড খুব একটা বেশি নেই। ফলে নিজেদের চেনা মাঠে জয় পেতে হলে সিলেট টাইটান্সের ব্যাটারদের অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতে হবে।

সারসংক্ষেপ:

সিলেটের ব্যাটিং-বান্ধব উইকেটে চট্টগ্রামের ব্যাটাররা আজ আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। বড় পুঁজি অর্জনের মাধ্যমে জয়ের কাজটা অর্ধেক গুছিয়ে রেখেছে রয়্যালসরা। এখন দেখার বিষয়, সিলেটের ঘরের ছেলেরা এই বিশাল রানের চাপ সামলে ‘Run Chase’-এ কোনো মিরাকল ঘটাতে পারে কি না।

Tags: match report bangladesh cricket cricket news sports analysis sheikh mahedi sylhet titans chattogram royals bpl 2026 highest score adam rossington