দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হওয়া তিন সাবেক নেতাকে প্রায় আড়াই বছর পর দলে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপি। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক সদস্যপদ পুনরুদ্ধার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া তিন নেতা হলেন— বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আমিনুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান টিপু ও হারুন অর রশিদ। এদের মধ্যে টিপু ও হারুন বরিশাল সিটির দুটি ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। প্রত্যাহারের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, 'আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আপনাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হলো।'
বহিষ্কারের নেপথ্যে কী ছিল উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ওই তিনজনসহ বিএনপির মোট ১৯ জন নেতা অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময় তাদের 'বেইমান' আখ্যা দিয়ে একই বছরের ৪ জুন মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপনসহ মোট ১৯ নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি হাই কমান্ড। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দীর্ঘ আড়াই বছর পর এই তিন নেতাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার খবর দলের দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। দলের একশ্রেণির নেতাকর্মীর অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশ্নবিদ্ধ সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ওই ১৯ নেতা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের বৈধতা দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করেই নির্বাচনে অংশ নেন। প্রশ্ন উঠেছে, যে অপরাধে অন্য নেতারা এখনো বহিষ্কৃত, সেখানে মাত্র তিনজনকে কেন ফিরিয়ে নেওয়া হলো। তবে একই সঙ্গে বহিষ্কার হওয়া অপর নেতাদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।