সৌদি আরবের জেদ্দায় বুধবার রাতে ফুটবলপ্রেমীরা অধীর অপেক্ষায় ছিলেন দুই তরুণ তুর্কি—লামিন ইয়ামাল বনাম নিকো উইলিয়ামসের এক জমজমাট দ্বৈরথ দেখার জন্য। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগে ‘Team Sheet’ হাতে আসতেই চমকে যান সবাই। কোচ হ্যান্সি ফ্লিক ও এর্নেস্তো ভালভার্দে—দুজনই তাদের দুই তুরুপের তাসকে শুরুর একাদশের বাইরে রাখেন। তবে ইয়ামাল দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামলেও, নিকোকে ছাড়াই লড়াই করতে হয় বিলবাওকে। আর এই সুযোগেই জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে চূর্ণ করে স্প্যানিশ সুপার কাপের (Supercopa de España) ফাইনালে জায়গা করে নিল বার্সেলোনা।
জেদ্দার মরুঝড়: ১৬ মিনিটে ৪ গোল
ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনার ‘Tactics’ ও হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে অসহায় মনে হচ্ছিল অ্যাথলেটিক ক্লাবকে। প্রথমার্ধের মাত্র ১৬ মিনিটের এক বিধ্বংসী ঝড়ে ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে কাতালানরা।
খেলার ২২ মিনিটে গোল উৎসবের সূচনা করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তরেস। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বার্সাকে। ৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মাঝমাঠের কারিগর ফেরমিন লোপেজ। ঠিক চার মিনিট পরেই, ৩৪ মিনিটে স্কোরশিটে নাম তোলেন উদীয়মান তারকা রুনি বার্ঘদজি। বিলবাও রক্ষণের কফিনে শেষ পেরেকটি মারতে দেরি করেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া। ৩৮ মিনিটে তিনি যখন জালের দেখা পান, তখন স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে ৪-০। মাত্র ১৬ মিনিটের ব্যবধানে ৪ গোল হজম করে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে ভালভার্দের শিষ্যরা।
রাফিনিয়া: ফ্লিক-যুগের নতুন প্রাণভোমরা
বর্তমান বার্সেলোনায় রাফিনিয়া যেন এক অপ্রতিরোধ্য নাম। এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার চলতি মৌসুমে হ্যান্স ফ্লিকের অধীনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন। পুরো ম্যাচে ৮০ শতাংশ ‘Ball Possession’ ধরে রাখা বার্সার আক্রমণের প্রাণভোমরা ছিলেন রাফিনিয়াই। ৫২ মিনিটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি। কেবল দুই গোলই নয়, সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়ে একটি ‘Assist’-ও জমা করেছেন নিজের খাতায়। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৬ ম্যাচে ৯ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে নিজের ‘Market Value’ ও গুরুত্বের প্রমাণ দিচ্ছেন এই তারকা।
পরিসংখ্যানে বার্সার একক আধিপত্য
পুরো ম্যাচে বার্সেলোনা খেলছিল এক ক্ল্যাসিক্যাল পাওয়ার-ফুটবল। ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যান বলছে, বিলবাওয়ের ওপর স্রেফ রোলার চালিয়েছে ফ্লিক-বাহিনী। ১৪টি শটের মধ্যে ৯টিই ছিল ‘On Target’। অন্যদিকে, নিকো উইলিয়ামসের অনুপস্থিতিতে বিলবাওয়ের আক্রমণভাগে ছিল না কোনো ধার। বার্সার ডিফেন্স লাইন ও গোলরক্ষকের তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষাই নিতে পারেনি তারা।
চোখ এখন এল ক্লাসিকো ফাইনালে
সেমিফাইনালে এই দাপুটে জয়ের পর বার্সেলোনার নজর এখন শিরোপার দিকে। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নির্ধারিত হবে আজ রাতে রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের মাধ্যমে। ফুটবল বিশ্ব এখন একটি হাই-ভোল্টেজ ‘El Clasico’ ফাইনালের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে। হ্যান্স ফ্লিকের বার্সেলোনা যেভাবে ট্রফি জয়ের নেশায় ছুটছে, তাতে ফাইনাল যে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর হবে, তা বলাই বাহুল্য।