• দেশজুড়ে
  • শৈত্যপ্রবাহে রাজশাহীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড়, জনবল সংকটে ব্যাহত সেবা

শৈত্যপ্রবাহে রাজশাহীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড়, জনবল সংকটে ব্যাহত সেবা

রাজশাহী বিভাগে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ রোগী ভর্তি। শয্যা না পেয়ে সিঁড়ি বা মেঝেতে চলছে চিকিৎসা।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
শৈত্যপ্রবাহে রাজশাহীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড়, জনবল সংকটে ব্যাহত সেবা

চলমান মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের কারণে রাজশাহী বিভাগজুড়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য মৌসুমি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক-নার্সসহ হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা হিমশিম খাচ্ছেন এবং জনবল সংকটের কারণে সেবাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শীতের তীব্রতা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস রাজশাহীতে বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে, যা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বুধবার (০৭ জানুয়ারি) সকালে নওগাঁর বদলগাছিতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন। একই সময়ে রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

রামেক হাসপাতালে প্রকট শয্যা সংকট চিকিৎসকদের মতে, গত সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা হ্রাস, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে ঠান্ডাজনিত জটিলতায় রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীর চাপ বাড়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল চরম জনাকীর্ণ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালটির অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ২০০ হলেও বর্তমানে সেখানে ২ হাজার ৫৩৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও আনুপাতিক হারে জনবল বাড়ানো হয়নি, যার ফলে সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধি রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, ঠান্ডাজনিত কারণে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক। প্রতিদিনই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ায় রোগ জটিল হয়ে উঠছে। নওগাঁর মহাদেবপুর থেকে আসা এক রোগীর স্বজন মো. স্বাধীন জানান, শয্যা না পেয়ে তার অসুস্থ মাকে হাসপাতালের ৩৩নং ওয়ার্ডের সিঁড়ির পাশে রেখেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের ভয়াবহ চিত্র রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগেও শয্যা সংকট প্রকট। ওয়ার্ডের ৫৩টি শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ১৪৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন আছে। হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শহীদা ইয়াসমিন জানান, ভর্তি হওয়া শিশুদের বেশিরভাগই সর্দি, ব্রঙ্কিওলাইটিস, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।

বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালের পরিস্থিতি রাজশাহী বিভাগের বগুড়া, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাসপাতালগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. মো. নজমুল হক জানান, ৫০০ শয্যার হাসপাতালে ১ হাজার ৮০০’র বেশি রোগী চিকিৎসাধীন। শয্যার অভাবে অনেককে মেঝেতে রাখতে হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩৫০ থেকে ৩৭৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। জনবল মাত্র ৫০ শতাংশ হওয়ায় সেবা দেওয়া কঠিন হচ্ছে। নওগাঁ সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মো. মীর সুফিয়ান জানান, ১০০ শয্যার বিপরীতে ২২২ জন রোগী ভর্তি আছেন এবং শিশু রোগীর পাশাপাশি ডায়াবেটিসজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘ হলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাঁরা নিম্নআয়ের মানুষ, খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিক ও গ্রামীণ বাসিন্দাদের গরম কাপড় ব্যবহার, নিরাপদ পানি পান ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Tags: rajshahi cold wave child health pneumonia government hospital patient overload manpower crisis