শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিগত সরকারের সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে আইসিটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগে সংঘটিত অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা তদন্ত ও গবেষণাপূর্বক শ্বেতপত্র প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর টাস্কফোর্স প্রস্তুতকৃত শ্বেতপত্রটি চূড়ান্তভাবে দাখিল করেছে।
কী আছে এই শ্বেতপত্রে? প্রকাশিত শ্বেতপত্রে গত দেড় দশকে আইসিটি বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম— যেমন চুক্তি, প্রকল্পের ডিপিপি (Development Project Proposal), অডিট রিপোর্ট এবং তদন্ত প্রতিবেদনে— সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং কাঠামোগত সমস্যার একটি বিশদ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
টাস্কফোর্স গঠন প্রক্রিয়া মুহম্মদ জসীম উদ্দিন আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে গত বছরের ৩ এপ্রিল আইসিটি বিভাগের জন্য এই টাস্কফোর্স গঠন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। টাস্কফোর্স গঠনের মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সম্পাদিত সকল চুক্তি, প্রকল্পের ডিপিপি, অডিট রিপোর্ট এবং তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও অপব্যবস্থাপনার তদন্ত শেষে ‘আইসিটি শ্বেতপত্র’ তৈরি করা।
সরকারের প্রত্যাশা সরকার আশা করছে, এই শ্বেতপত্র আইসিটি বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। এটি আইসিটি সেক্টরে দীর্ঘমেয়াদী স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।