বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) দলটির যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এই মন্তব্য করেন।
দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র
হেফাজত মহাসচিব বলেন, গত কয়েকদিনে একাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকের ওপর হত্যা ও নির্যাতন হয়েছে এবং এর পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধা হাদি ও মুসাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি মনে করেন— এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলা। এসব ঘটনার ইন্ধনদাতা ও লাভবানদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর হওয়া দরকার বলে তিনি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে নারী নির্যাতন ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৌশলগতভাবে প্রতিহত করা প্রয়োজন।
জুলাই বিপ্লবীদের স্তব্ধ করার চক্রান্ত
আল্লামা সাজেদুর রহমান আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারী এখনো ধরা পড়েনি। দিনেদুপুরে গুলি করে হত্যাকারী কীভাবে পালিয়ে যায়— এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তারা জুলাই বিপ্লবীদের স্তব্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তার মতে, হাজার মানুষের আত্মত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা গঠন ও নতুন রাষ্ট্রকাঠামো তৈরির পথে 'ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদী শক্তি' বাধা তৈরি করতে চায়।
খুনিচক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধির আহ্বান
হেফাজত মহাসচিব উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের অভ্যন্তরীণ একটি দুষ্টচক্রও সক্রিয় হচ্ছে, যারা জনগণের মাঝে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তারা এই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে সহিংসতার পথে হাঁটছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি এই খুনিচক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, গ্রেপ্তারকৃত আগ্রাসনবিরোধী প্রতিবাদী নিরপরাধ আলেম-ওলামা ও ইসলামপন্থিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।