যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে যাওয়ার আগে বাংলাদেশি নাগরিকদের একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের নিরাপত্তা জামানত (ভিসা বন্ড) জমা দেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তকে 'দুঃখজনক ও কষ্টকর' বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে একইসঙ্গে তিনি বিষয়টি অস্বাভাবিক নয় বলেও উল্লেখ করেন এবং এর জন্য পূর্ববর্তী সরকারগুলোর নীতিগত ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।
নিরাপত্তা জামানত নিয়ে মন্তব্য বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মো. তৌহিদ হোসেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে বাংলাদেশিদের পাঁচ হাজার থেকে পনেরো হাজার মার্কিন ডলার নিরাপত্তা স্বরূপ জমা দিতে হবে। তিনি এটিকে 'দুঃখজনক ও কষ্টকর' বললেও, পরিস্থিতিকে 'অস্বাভাবিক' বলতে নারাজ।
কেন এই কঠোরতা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করে বলেন, এই সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং অভিবাসন নিয়ে সমস্যা রয়েছে এমন অনেক দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি মার্কিন পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সামাজিক সুরক্ষা থেকে অর্থ গ্রহণ করে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বোচ্চ। এই কারণে বাংলাদেশ যদি এমন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকে, তা তার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।
দায়-দায়িত্ব কার মার্কিন নতুন এই ভিসা নীতির জন্য বর্তমান সরকার দায়ী নয় বলে মত দেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। যদি এসব বাংলাদেশি সবাই গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র যেতেন, তবে এই সরকারের দায় থাকতো। কিন্তু এটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তাই নীতিগত দায়-দায়িত্ব যদি কারো থাকে, তবে সেটি হলো পূর্ববর্তী সব সরকারের। তিনি আরও বলেন, মানুষের এই নড়াচড়া বন্ধ করার সাধ্য কোনো সরকারের ছিল না। তবে বর্তমান সরকার অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ভিসা বন্ডের সমস্যা সমাধানে মার্কিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, "অবশ্যই সাধারণ পদ্ধতিতে আমরা চেষ্টা করব, যেন এটা থেকে আমাদেরকে অব্যাহতি করা হয়। চেষ্টা তো অবশ্যই করব।"