বিক্ষোভের সুযোগ খুঁজছে শত্রু পক্ষ
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে নেমেছে। এই পরিস্থিতিকে নিজেদের জন্য একটি মোক্ষম সুযোগ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গত বছর জুনে ইসরায়েল ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়ালেও, একপর্যায়ে ইরানের প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে তারা ট্রাম্পের সহযোগিতা চায়। এরপর ইসরায়েলকে সহায়তার জন্য ট্রাম্প তেহরানে হামলা চালান। এই ঘটনার পর ইরান তাদের সামরিক শক্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে, ফলে শত্রু পক্ষ মরিয়া হয়ে ইরানকে চাপে রাখতে চাইছে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর উসকানিমূলক মন্তব্য
ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের রক্ষায় প্রয়োজনে তেহরানে অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন। একই সুরে কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তারা উভয়েই সংকটময় মুহূর্তে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিশেষ করে, অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক দেশের নজর কেড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর নেতারাও।
ইরানের সেনাপ্রধানের জবাব
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই ধরনের মন্তব্যের পরই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান জেনারেল আমি হাতামি। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, “ইরানি জাতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এবং এ ধরনের বক্তব্য সহ্য করা হবে না, এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে।” এর মাধ্যমে তিনি দুই দেশের নেতৃত্বকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার জন্য বার্তা দেন।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পরিস্থিতি
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। যদিও দেশটির সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভ ২০২২-২০২৩ সালের আন্দোলনের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি, তবুও অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেকের মনোযোগ কেড়েছে।