• আন্তর্জাতিক
  • নির্বাচনের প্রথম ধাপ শেষেই বিদ্রোহীদের সাঁড়াশি আক্রমণ; মিয়ানমারে চরম বিপর্যয়ের মুখে জান্তা বাহিনী

নির্বাচনের প্রথম ধাপ শেষেই বিদ্রোহীদের সাঁড়াশি আক্রমণ; মিয়ানমারে চরম বিপর্যয়ের মুখে জান্তা বাহিনী

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনের প্রথম ধাপ শেষেই বিদ্রোহীদের সাঁড়াশি আক্রমণ; মিয়ানমারে চরম বিপর্যয়ের মুখে জান্তা বাহিনী

সিতওয়ে-কায়াকফিউতে সংঘাতের দাবানল, আরাকান আর্মির হাতে জান্তা কমান্ডারের মৃত্যু; সাগাইংয়ের কৌশলগত শহর ‘কাথা’ পতনের অপেক্ষায়।

মিয়ানমারে বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতে না হতেই দেশজুড়ে জান্তা বিরোধী সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে যখন জান্তা সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের বৈধতা প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে তখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত হামলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দেশটির একাধিক রাজ্য। বিশেষ করে রাখাইন ও সাগাইং অঞ্চলে জান্তা বাহিনী এখন অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে। বিদ্রোহীদের শক্তিশালী ‘Strategic Offensive’ বা কৌশলগত আক্রমণের মুখে একের পর এক সামরিক চৌকি ও শহরের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে নেপিদোর জেনারেলরা।

রাখাইনে সংঘাতের দাবানল: নিশানায় চীনা বিনিয়োগ কেন্দ্র

রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ে (Sittwe) এবং গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর কায়াকফিউতে (Kyaukphyu) জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাবতী’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কায়াকফিউ শহরে হামলা জোরদার করেছে আরাকান আর্মি (AA)। উল্লেখ্য, এই শহরটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে চীনের একটি বিশাল ‘Investment Project’ বা বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে।

আরাকান আর্মির দাবি, তারা এখন শহরের মূল কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং আশপাশের সামরিক ক্যাম্পগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, পানিবেষ্টিত হওয়ায় শহরটির ভৌগোলিক সুরক্ষাব্যবস্থা মজবুত হলেও, ড্রোন (Drone) এবং ভারী অস্ত্রের মুখে জান্তা সেনারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

জান্তা কমান্ডারের মৃত্যু ও সামরিক বিপর্যয়

রাখাইন-বাগো সীমান্তে জান্তা বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে আরাকান আর্মির একটি অতর্কিত হামলা। এই সংঘর্ষে জান্তা বাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন কমান্ডারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ড্রোন অ্যাটাক (Drone Attack) এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী হামলার মাধ্যমে ডজনখানেক জান্তা সেনাকে পরাস্ত করা হয়েছে। এই কমান্ডারের মৃত্যু জান্তা বাহিনীর ‘Command and Control’ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরাবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

সাগাইংয়ে ‘কাথা’ শহর পতনের মুখে: বিচ্ছিন্ন হচ্ছে রসদ সরবরাহ

মিয়ানমারের উত্তরের রাজ্য সাগাইং এখন বিদ্রোহীদের দখলে যাওয়ার অপেক্ষায়। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘কাথা’ (Katha) শহরের নিয়ন্ত্রণ প্রায় হারিয়ে ফেলেছে জান্তা বাহিনী। এই অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছে কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (KIA), যাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে অল বার্মা স্টুডেন্টস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ABSDF) এবং জাতীয় ঐক্য সরকারের (NUG) অধীনস্থ বিভিন্ন সশস্ত্র ইউনিট।

বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যেই শহরের প্রধান সামরিক চেকপোস্টগুলো দখল করে নিয়েছে। ভৌগোলিকভাবে কাথা শহরের গুরুত্ব অপরিসীম। ইরাবতী নদীর পাড়ে অবস্থিত এই শহরটির নিয়ন্ত্রণ হারালে সাগাইং ও কাচিন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর ‘Logistics Supply’ বা রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। কারণ, স্থলপথে বিদ্রোহীদের বাধার কারণে জান্তা বাহিনী এখন এই নদীপথের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।

নির্বাচন বনাম বাস্তবতা: গদি রক্ষায় জান্তার লড়াই

২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারে যে স্থিতিশীলতার স্বপ্ন জান্তা সরকার দেখিয়েছিল, মাঠপর্যায়ের চিত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে এই ব্যাপক সংঘাত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিদ্রোহীরা কোনোভাবেই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহীদের এই ‘Symmetric Warfare’ বা সমান্তরাল যুদ্ধ জান্তা বাহিনীকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তি দিয়ে জান্তা কতদিন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।

Tags: national election arakan army myanmar conflict drone attack geopolitical crisis junta forces katha city military commander logistics supply rebel alliance