শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকার রায়সাহেব বাজার, রথখোলা মোড়, নারিন্দা গোয়ালঘাট লেন ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। দেখা যায়, গত সপ্তাহে যে ডিম ১১০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হয়েছে আজ তার দাম ১২০ টাকা। এর মানে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পুরান ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ডিম কম পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য দাম বাড়ছে। এ ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে।
কয়েকটি মাংসের দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। যা দুদিন আগেও ৭৫০ টাকায় বিক্রি হতো। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে রায়সাহেব বাজারের মাংস বিক্রেতা জালাল বলেন, “বর্ডার দিয়ে ইন্ডিয়ান গরু না আসার কারণে দাম বাড়ছে। বাংলাদেশের গরু কম। দাম কমাতে হলে ইন্ডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে হবে।”
ওই বাজারে মাংসের দরদাম করতে থাকা একজন ক্রেতা বলেন, “মাংস খুব কম কিনি। কারণ, দাম আগের থেকেই বেশি। আজকে শুক্রবার, এ জন্য ভাবছি একটু মাংস খাই। কিন্তু, দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে গেলো। এ দেশে দাম শুধু বাড়ে, কমে না।” ডিম ও মাংসের দাম বাড়লেও আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে মাছ, শাকসবজিসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। বড় জাতের রুই মাছ কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, হাইব্রিড কৈ মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে, বরাবরের মত নাগালের বাইরে রয়েছে দেশি মাছের দাম। প্রতি কেজি দেশি শোল মাছ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা করে। প্রতিকেজি দেশি কৈ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, চাষের মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
বাজারে আজ সবজির দামে কোনও পরিবর্তন নেই। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে শীতকালীনসহ নানান ধরনের সবজি। সরবরাহ বেশি থাকায় পেঁয়াজ ও শীতকালীন সবজির দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে কম রয়েছে। বাজার ও মানভেদে শিম প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। প্রতিকেজি মুলা ৩০ থেকে ৩৫, বেগুন ৪০ থেকে ৬০, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ২০ থেকে ৩০, শালগম ও পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ এবং ব্রোকলি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের বাইরে থাকা কিছু সবজির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পটোল, করলা ও ঢ্যাঁড়সও এই দামে মিলছে। একই দামে মিলছে টমেটো।
বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটার ১৯৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা, কৌটাজাত ঘি ১৪৫০ থেকে ১৫৫০ টাকা, খোলা ঘি ১২৫০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১১০ টাকা, খোলা চিনি ৯৫ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ও আটা যথাক্রমে ১৩০ ও ১২০ টাকা এবং খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, এলাচি চার হাজার ৭৫০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, লবঙ্গ এক হাজার ২৮০ টাকা, সাদা গোল মরিচ এক হাজার ৩৫০ টাকা ও কালো গোল মরিচ ১ হাজার ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি প্যাকেট পোলাও চাল ১৫৫ টাকা, খোলা পোলাও চাল মানভেদে ৯০ থেকে ১৩০ টাকা, ছোট মসুর ডাল ১৫৫ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ১১৫ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং মাষকলাই ডাল ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।