পঞ্চগড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রযুক্তির অপব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে রুবীনা খাতুন (৩২) নামে এক নারী পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় পৌর এলাকার ডক্টর আবেদা হাফিজ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আটক রুবীনা পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের দফাদার পাড়া এলাকার আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী।
তল্লাশিতে মিলল ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক ডিভাইস
জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা চলাকালীন রুবীনার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন কক্ষ পরিদর্শক (Invigilator)। এক পর্যায়ে তার কানে একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকারের ইলেকট্রনিক ডিভাইস (Electronic Device) শনাক্ত করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কেন্দ্র সচিবকে অবহিত করা হলে তিনি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সোহেল রানাকে খবর দেন। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে ডিভাইসটি জব্দ করা হয় এবং ওই পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
সহ-পরীক্ষার্থীর তৎপরতায় ধরা পড়ল জালিয়াতি
কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান সুমন ও মনরঞ্জন কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানান, পরীক্ষার হলে পাশের সিটে বসা এক পরীক্ষার্থী রুবীনার গতিবিধি এবং কান থেকে আসা অস্পষ্ট শব্দ লক্ষ্য করেন। তিনি বিষয়টি শিক্ষকদের জানালে প্রথমে রুবীনা অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তবে পরে তাকে অধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে তল্লাশি চালালে জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ মেলে।
আইনি জটিলতা ও মানবিক সংকট
ঘটনার সময় এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় রুবীনার তিন বছর বয়সী শিশুকন্যাকে নিয়ে। পরীক্ষাকেন্দ্রে ওই পরীক্ষার্থীর সাথে তার শিশুটিও ছিল। আটকের পর রুবীনার বাবা শিশুটিকে তার মায়ের কাছে রেখে চলে যান। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, "বিষয়টি মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতাভুক্ত না হওয়ায় আমরা নিয়মিত মামলা (Regular Case) দায়েরের জন্য তাকে থানায় সোপর্দ করেছি। তবে সাথে দুগ্ধপোষ্য শিশু থাকায় আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মানবিক দিকটিও পুলিশ বিবেচনা করছে।"
পঞ্চগড়ে নিয়োগ পরীক্ষার চিত্র
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার পঞ্চগড় জেলায় সহকারী শিক্ষকের ১৭১টি পদের বিপরীতে ২০টি কেন্দ্রে মোট ১০ হাজার ৮১০ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। তবে শুক্রবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৮ হাজার ৭৮১ জন, যেখানে অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ২৯ জন। উপস্থিতির হার ছিল ৮১.২৩ শতাংশ।
এই জালিয়াতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পঞ্চগড় সদর থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।