অবশেষে হারের দীর্ঘ মরুভূমি পাড়ি দিয়ে জয়ের দেখা পেল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। একের পর এক পরাজয়ে পর্যুদস্ত দলটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (BPL) চলতি আসরে সপ্তম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সকে ৯ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার নতুন রসদ খুঁজে পেল দলটি। টানা ছয় হারের পর এই 'কামব্যাক' সমর্থকদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
লো-স্কোরিং ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াই
টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা নোয়াখালী এক্সপ্রেসের শুরুটা ছিল প্রতিশ্রুতিশীল। শাহাদত হোসেন দিপু ও সৌম্য সরকার উদ্বোধনী জুটিতে দ্রুত ২৫ রান যোগ করেন। তবে মোস্তাফিজুর রহমানের ইনসুইং ডেলিভারিতে দিপু (১৪) বোল্ড হলে ধাক্কা খায় দলটি। দ্বিতীয় উইকেটে সৌম্য (৩১) ও হাবিবুর রহমান সোহান (৩০) দলের হাল ধরেন। কিন্তু মধ্যভাগে খুশদিল শাহর জোড়া আঘাত এবং মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর স্মরণীয় হ্যাটট্রিকে (Hat-trick) খেই হারিয়ে ফেলে নোয়াখালী। জাকের আলী অনিকের ধৈর্যশীল ৩৮ রানের ওপর ভর করে ১৯.৫ ওভারে ১৪৮ রানে অলআউট হয় দলটি। মৃত্যুঞ্জয় ও মোস্তাফিজ উভয়েই ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।
রংপুরের ব্যাটিং বিপর্যয় ও জহির খানের ম্যাজিক
১৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে রংপুর রাইডার্স। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত ইনসুইংয়ে লিটন দাস (১৫) বোল্ড হওয়ার পর মোহাম্মদ নবীর বলে দ্রুত বিদায় নেন দাউইদ মালানও। তৃতীয় উইকেটে ইফতিখার আহমেদ ও তাওহীদ হৃদয়ের ৬৩ রানের পার্টনারশিপ (Partnership) রংপুরকে জয়ের পথে ফিরিয়েছিল। তবে জহির খানের লেগ-স্পিন ম্যাজিক খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
জহির খান প্রথমে থিতু হওয়া ইফতিখারকে (৩৭) প্যাভিলিয়নে ফেরান এবং পরে সেট ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়কেও (২৯) এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে ফেলেন। মাঝপথে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান দ্রুত আউট হলে রংপুরের চাপ আরও বাড়ে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল ১৮ রান, কিন্তু খুশদিল শাহকে হারিয়ে তারা মাত্র ৮ রান তুলতে সক্ষম হয়। বিলাল সামি ও মেহেদী হাসান রানার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৩৯ রানেই থেমে যায় রংপুরের ইনিংস।
পয়েন্ট টেবিল ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
এই জয়ের ফলে টেবিলের তলানি থেকে উপরে ওঠার লড়াই শুরু করল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। সাত ম্যাচে এটি তাদের প্রথম জয়। অন্যদিকে, শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়েও ব্যাটিং লাইনআপের ব্যর্থতায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারাল রংপুর রাইডার্স। ম্যাচ শেষে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের অধিনায়ক জানান, এই জয়টি তাদের জন্য কেবল দুটি পয়েন্ট নয়, বরং হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় হাতিয়ার।
বিপিএলের আগামী ম্যাচগুলোতে এই 'মোমেন্টাম' বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ নোয়াখালীর জন্য। জহির খানের ইকোনমিক্যাল বোলিং এবং জাকের আলীর দায়িত্বশীল ব্যাটিং—এই দুটি ইতিবাচক দিক নিয়ে পরের ম্যাচে মাঠে নামবে দলটি।