ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পাবনা জেলার দুটি আসনে ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আসন দুটির সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি মামলার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা
উপসচিব (নির্বাচন পরিচালন-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি জানানো হয়েছে। নির্বাচনি এলাকা ৬৮ পাবনা-১ ও ৬৯ পাবনা-২ আসনে নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত সিএমপি নং ১১০৫/২০২৫ মামলায় আপিল বিভাগ গত ৫ জানুয়ারি যে আদেশ প্রদান করেছেন, তার প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
মামলা ও আপিল বিভাগের আদেশ
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গত ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির যে অংশটুকুতে পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনে আগের সীমানা পুনর্বহাল করা হয়েছিল, গত সোমবার (৬ জানুয়ারি) আপিল বিভাগ সেই অংশটুকু স্থগিত করেন। লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও একজন প্রার্থীর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিতর্ক
আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটকে কেন্দ্র করে। ঐ গেজেটে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে সাঁথিয়া উপজেলার পুরোটা নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলাকে মিলিয়ে পাবনা-২ আসন চূড়ান্ত করা হয়। ইসির এই গেজেটের বৈধতা নিয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। সেই রিটের প্রেক্ষিতেই আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলো ইসি।