• আন্তর্জাতিক
  • শান্তির পথে বড় ছাড়: গাজার প্রশাসনিক ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুত হামাস, তবে থামছে না ইসরায়েলি হামলা

শান্তির পথে বড় ছাড়: গাজার প্রশাসনিক ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুত হামাস, তবে থামছে না ইসরায়েলি হামলা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
শান্তির পথে বড় ছাড়: গাজার প্রশাসনিক ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুত হামাস, তবে থামছে না ইসরায়েলি হামলা

জাতিসংঘের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একমত বাসেম নাঈম; কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই ত্রাণ সংকটে গাজায় শীতে প্রাণ হারাল ৭ দিনের নবজাতক।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে বড় ধরণের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে হামাস। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্য এবং গাজার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাসেম নাঈম জানিয়েছেন, গাজার প্রশাসনিক ক্ষমতা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে যুদ্ধবিরতির (Ceasefire) দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করতে তারা প্রস্তুত। তবে এই কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী ‘Military Operation’ অব্যাহত রয়েছে।

প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর ও কূটনৈতিক সদিচ্ছা

শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বাসেম নাঈম স্পষ্ট করেন যে, হামাস গাজার বেসামরিক ও সরকারি শাসনভার থেকে সরে যেতে নীতিগতভাবে রাজি। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (UN Security Council) অনুমোদনের পর যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাবটি এখন কেবল স্থানীয় ইস্যু নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনায় (International Plan) পরিণত হয়েছে। হামাস এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে ইতিবাচক হলেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘Diplomatic Breach’ বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। নাঈমের দাবি, ওয়াশিংটনের প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছাড়া এই পর্যায়ের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া ইসরায়েলের পক্ষে সম্ভব নয়।

কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি, বাস্তবে রণক্ষেত্র

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই গাজার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শনিবারও নেতানিয়াহু বাহিনীর হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবারের হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। স্থানীয় সূত্রমতে, গাজার নুসেইরাত ও বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে (Refugee Camp) আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া রাফাহ, আল-মাওয়াসি এবং গাজা সিটির আসকুলা এলাকায় ভারি বোমাবর্ষণে শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) দাবি, গাজা থেকে রকেট নিক্ষেপের চেষ্টার পাল্টা জবাব হিসেবে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

মানবিক বিপর্যয়: শীতে নবজাতকের মৃত্যু

গাজার মানবিক পরিস্থিতি (Humanitarian Crisis) এখন খাদের কিনারায়। একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে তীব্র শীত—সব মিলিয়ে চরম অমানবিক জীবনযাপন করছে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ। ত্রাণ সরবরাহে ইসরায়েলি বাধার কারণে দেইর আল-বালাহ এলাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও উষ্ণতার অভাবে মাত্র সাত দিনের এক নবজাতকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ইসরায়েল প্রয়োজনীয় তাঁবু এবং নির্মাণ সামগ্রী (Construction Materials) প্রবেশ করতে না দেওয়ায় সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়ে বাস করছে, যা জীবনহানির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা: জাতিসংঘের পরিসংখ্যান

জাতিসংঘের (UN) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ স্থাপনা বা ভবন আংশিক অথবা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ধ্বংসযজ্ঞ কেবল অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নেই; যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমাগত চাপ সত্ত্বেও গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় ‘Humanitarian Aid’ বা মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এখন বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

Tags: middle east israel palestine humanitarian aid gaza crisis hamas gaza ceasefire deal basem naim un resolution