• রাজনীতি
  • জুলাই-আগস্ট গণহত্যা ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আজ অভিযোগ গঠনের শুনানি

জুলাই-আগস্ট গণহত্যা ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আজ অভিযোগ গঠনের শুনানি

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
জুলাই-আগস্ট গণহত্যা ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আজ অভিযোগ গঠনের শুনানি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে জয়ের নাম; প্রসিকিউশনের শুনানি শেষে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন বিবাদীরা।

২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার তথ্য গোপন করতে ‘ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ বা পরিকল্পিতভাবে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা বন্ধের অভিযোগে আজ বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রান্ত হতে যাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ অভিযোগ গঠনের (Charge Framing) বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো উপস্থাপন করবেন এবং এরপর আসামিপক্ষ তাদের যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।

জুলাই-আগস্টের ‘মাস্টারমাইন্ড’ ও বাস্তবায়নকারী

মামলার এজাহার ও প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালীন জুলাই ও আগস্ট মাসে সারাদেশে যে নৃশংসতা ও ‘Mass Killing’ সংঘটিত হয়েছে, তা বহির্বিশ্ব থেকে আড়াল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আইসিটি উপদেষ্টা হিসেবে সজীব ওয়াজেদ জয় ছিলেন এই তথ্য গোপনের ব্লু-প্রিন্টের প্রধান ‘Mastermind’ বা পরিকল্পনাকারী। আর বাংলাদেশে বসে মাঠপর্যায়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল কারিগর ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যায় উসকানি এবং অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি করা হয়।

আইনি প্রক্রিয়া ও আইনজীবীদের অবস্থান

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি শুনানির কথা থাকলেও কারিগরি ও প্রশাসনিক কারণে তা পিছিয়ে যায়। পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সময় প্রার্থনা করলে আদালত ১১ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন। অন্যদিকে, পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে আইনি লড়াই করার জন্য আদালত রাষ্ট্রনিযুক্ত বা ‘State Defense’ আইনজীবী হিসেবে মনজুর আলমকে নিয়োগ দিয়েছেন। গত ১৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেওয়া হলেও আনুষ্ঠানিক চিঠিপত্র পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় পূর্ববর্তী শুনানিতে বিলম্ব ঘটে।

শুনানির প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিকতা

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন পক্ষের দাখিল করা ‘Formal Charge’ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। পরবর্তীতে পলাতক আসামি জয়ের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় তাকে সশরীরে হাজির হতে বা আত্মসমর্পণে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ১০ ডিসেম্বর। আজকের শুনানিতে প্রসিকিউশন দল তাদের সংগ্রহ করা ডিজিটাল এভিডেন্স (Digital Evidence) এবং তথ্যপ্রযুক্তি অপব্যবহারের প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সার্বিক প্রেক্ষাপটে এই মামলাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা করার অভিযোগে বিচার চলছে। এই ট্রায়ালের গতিপ্রকৃতির দিকে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা ও সাধারণ মানুষের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।

Tags: bangladesh news july uprising crimes humanity sajeeb wazed zunaid palak internet blackout genocide case ict trial