ইরানের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ফল হবে ভয়াবহ—এমনই এক চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী যদি ওয়াশিংটন কোনো হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত প্রতিটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি (Military Base), নৌবহর এবং খোদ ইসরাইল ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ (Legitimate Target) হিসেবে বিবেচিত হবে।
তেহরানের পাল্টা রণকৌশল
ইরান ইন্টারন্যাশনাল টিভি চ্যানেলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পিকার গালিবাফ ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান বাগাড়ম্বর ও হুমকির জবাবে এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “মার্কিন সামরিক আগ্রাসন শুরু হলে, কেবল প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই আমরা সীমাবদ্ধ থাকব না। অধিকৃত অঞ্চল (ইসরাইল) এবং এই অঞ্চলে মোতায়েন করা প্রতিটি আমেরিকান সামরিক কেন্দ্র ও জাহাজ আমাদের নিশানায় থাকবে।” গালিবাফ ট্রাম্পকে ‘ভ্রান্ত’ (Delusional) বলে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন যেন এই অঞ্চলে কোনো ‘ভুল পদক্ষেপ’ (Miscalculation) না নেওয়া হয়।
ইরানি পার্লামেন্টে নজিরবিহীন উত্তেজনা
রোববার ইরানের পার্লামেন্টে এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার সময় এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্পিকারের বক্তব্যের সমর্থন জানিয়ে বহু আইনপ্রণেতা মঞ্চের সামনে জড়ো হয়ে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ (Death to America) স্লোগান দিতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি) দেখা গেছে, সংসদের ভেতরে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংসদ সদস্যরা সমস্বরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।
আভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকট
এমন এক সময়ে এই বৈশ্বিক সংঘাতের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, যখন ইরানের ভেতরেও পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) প্রতিবাদে শুরু হওয়া জনবিক্ষোভ এখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। তেহরান ও মাশহাদসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে চলা এই বিক্ষোভ বর্তমানে তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। মানবাধিকার কর্মীদের দেওয়া তথ্যমতে, বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ১১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
কূটনৈতিক সংকটের মুখে মধ্যপ্রাচ্য
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন এবং তেহরানের প্রতি তার কঠোর নীতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। ইরানের এই ‘বৈধ প্রতিরক্ষা কাঠামো’ (Legitimate Defense Framework) বজায় রাখার ঘোষণা মূলত ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের মিত্র দেশগুলোও এখন তেহরানের এই সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একদিকে অভ্যন্তরীণ জনরোষ এবং অন্যদিকে মার্কিন সামরিক হুমকির মুখে পড়ে ইরান এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। গালিবাফের এই মন্তব্য মূলত বিশ্ব সম্প্রদায়কে এটিই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আক্রান্ত হলে ইরান তার পুরো সামরিক শক্তি (Military Power) নিয়ে পাল্টা আঘাত করতে প্রস্তুত।