রাজধানীর পল্লবীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদ মিরাজ ও শহীদ শুভর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে শহীদদের বাসভবনে গিয়ে তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
শিক্ষার দায়িত্ব ও মানবিক প্রতিশ্রুতি
সাক্ষাৎকালে ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক ‘ধানের শীষ’ প্রার্থী ও জনপ্রিয় ফুটবলার আমিনুল হক এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি শহীদ মিরাজ ও শহীদ শুভর ছোট ভাইদের পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব (Educational Expense) গ্রহণের ঘোষণা দেন। তিনি পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করে বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগ কেবল একটি পরিবারের নয়, এটি গোটা জাতির সম্পদ। তাদের ছোট ভাইরা যাতে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের সেবায় নিয়োজিত হতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।”
লাশ নিয়ে ষড়যন্ত্র ও স্বৈরাচারের সমালোচনা
শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে আলাপকালে আমিনুল হক বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বৈষম্যবিরোধী গণআন্দোলনের (Antidiscrimination Movement) সময় একটি বিশেষ স্বৈরাচারী গোষ্ঠী মানুষের মৃতদেহ নিয়েও নোংরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার উন্মাদনায় তারা লাশের ওপর যে বর্বরতা ও নির্যাতন চালিয়েছে, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় (Dark Chapter) হয়ে থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন, কোনো সুস্থ রাজনৈতিক ব্যবস্থা লাশের ওপর দাঁড়িয়ে টিকে থাকতে পারে না।
জাতির কাছে শহীদদের মর্যাদা
সাবেক এই জাতীয় অধিনায়ক শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “শহীদ মিরাজ ও শুভর মতো তরুণদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছি। জাতি তাদের এই মহান ত্যাগ কখনো ভুলে যাবে না। তাদের চিরদিন বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হবে।” পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রয়োজনে আপনাদের ছায়া হয়ে থাকব।”
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
আমিনুল হকের এই সফরের সময় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে আমিনুল হকের এই সহমর্মিতা ও আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিকে কৃতজ্ঞচিত্তে গ্রহণ করা হয়। পল্লবীর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিএনপির এই শীর্ষ নেতার সরাসরি শহীদদের ঘরে পৌঁছানোর বিষয়টি ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।