কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে ছুটির দিনে একটু বাড়তি ঘুম বা অলস দুপুর কার না প্রিয়? কিন্তু আপনার এই অতিপ্রিয় অভ্যাসই হতে পারে অকাল পক্ষাঘাত বা ‘Brain Stroke’-এর অন্যতম কারণ। সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর মেডিকেল গবেষণায় (Medical Research) দেখা গেছে, যারা নিয়মিত প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ঘুমান, তারা অজান্তেই নিজেদের ঠেলে দিচ্ছেন এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে।
গবেষণার উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান
চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, যে সকল ব্যক্তি দিনে বা রাতে মিলিয়ে গড়ে ৯ ঘণ্টার বেশি সময় ঘুমান, তাদের মধ্যে স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ২৩ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি। গবেষকরা বলছেন, পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হলেও ‘Over-sleeping’ বা অতি-নিদ্রা শরীরের জৈবিক ঘড়ি (Biological Clock) নষ্ট করে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের বড় ধরনের ক্ষতি করে।
কেন বাড়ছে পক্ষাঘাতের ঝুঁকি?
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ ঘুমিয়ে থাকার সরাসরি অর্থ হলো দীর্ঘ সময় শরীরকে সম্পূর্ণ স্থবির রাখা বা ‘Physical Inactivity’। এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াকলাপে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে:
রক্তে শর্করার বৃদ্ধি: দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকার ফলে শরীরে মেটাবলিজম কমে যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
কোলেস্টেরলের সমস্যা: অতিরিক্ত ঘুমের কারণে ক্ষতিকর ‘Cholesterol’ ধমনীর দেওয়ালে জমা হতে শুরু করে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণহীনতা: শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাওয়ায় রক্তচাপ বা ‘Blood Pressure’ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, যা স্ট্রোকের প্রধান অনুঘটক।
ধমনীতে বাধা ও ‘Blood Clot’-এর আশঙ্কা
দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটিয়ে দিলে ধমনীতে রক্ত চলাচলের গতি ধীর হয়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোতে রক্ত জমাট বাঁধার বা ‘Blood Clot’ তৈরির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা দুপুরে লম্বা সময় ঘুমিয়ে আবার রাতেও দীর্ঘক্ষণ ঘুমান, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবথেকে প্রবল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘Sedentary Lifestyle Disorder’, যা প্রকারান্তরে শরীরকে পক্ষাঘাতের দিকে ঠেলে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: কতক্ষণ ঘুমাবেন?
সুস্থ ও দীর্ঘায়ু পেতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ঘুমের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধের ওপর জোর দিচ্ছেন। তাদের মতে: ১. একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিবিড় ও গভীর ঘুমই (Deep Sleep) যথেষ্ট। ২. ঘুমের সময়ের পাশাপাশি ঘুমের গুণমান বা ‘Sleep Quality’ বজায় রাখা জরুরি। ৩. ছুটির দিনেও নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত ঘুমানোর অভ্যাস পরিহার করা উচিত।
মনে রাখবেন, শরীরকে সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। অলসতা বা অতি-নিদ্রা আপনার জীবন থেকে চিরতরে কেড়ে নিতে পারে স্বাভাবিক চলাফেরার ক্ষমতা।