ভারত-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে (ODI) সিরিজের প্রথম ম্যাচ চলাকালীন লাইভ ধারাভাষ্যে এক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন ভারতের সাবেক কোচ সঞ্জয় বাঙ্গার। ভাদোদরায় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে তিনি হিন্দিকে ভারতের "জাতীয় ভাষা" (National Language) হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ধারাভাষ্যে কী ঘটেছিল ধারাভাষ্য চলাকালে সাবেক ভারতীয় পেসার বরুণ অ্যারন–এর সঙ্গে আলাপকালে ভাষা প্রসঙ্গে কথা ওঠে। বরুণ অ্যারন মজার ছলে মন্তব্য করেন, কেএল রাহুলকে হয়তো ওয়াশিংটন সুন্দর-এর সাথে তামিলে কথা বলতে হতে পারে, কারণ সুন্দর তামিল ভালো বোঝেন।
এ সময় সঞ্জয় বাঙ্গার তার উত্তরে বলেন, দক্ষিণ ভারতের মানুষ আঞ্চলিক ভাষাকে বেশি গুরুত্ব দিলেও হিন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটিই ভারতের জাতীয় ভাষা। তিনি "জাতীয় ভাষা"-তেই বেশি বিশ্বাসী—এই মন্তব্যটিই বিতর্কের মূল কারণ।
বিতর্কের মূল কারণ ও সাংবিধানিক সত্য বাঙ্গার-এর এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পরই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বহু ব্যবহারকারী ও বিশেষজ্ঞ মনে করিয়ে দেন যে, ভারতের সংবিধানে কোনো ভাষাকে "জাতীয় ভাষা" হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী হিন্দি ও ইংরেজি কেন্দ্রীয় সরকারের দাপ্তরিক ভাষা (Official Language) হলেও কোনো একক ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ার পর একজন ব্যবহারকারী লেখেন, লাইভ টিভিতে বসে এমন ভুল তথ্য দেওয়া একজন সাবেক জাতীয় কোচের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত। আরেকজন মন্তব্য করেন, "হিন্দিকে জাতীয় ভাষা বলা সম্পূর্ণ ভুল—অনুগ্রহ করে নিজেকে আগে শিক্ষিত করুন।" অনেকে বাঙ্গারের এই মন্তব্যকে "অসংবেদনশীল" বলেও আখ্যা দেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলোচনার মধ্যে হস্তক্ষেপ করেন উপস্থাপক জতিন সাপ্রু এবং সেখানেই বিষয়টি থেমে যায়। তবে ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সংবিধানগত বাস্তবতা নিয়ে সামান্য ভুল মন্তব্যও যে বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, এই ঘটনা তার একটি বড় উদাহরণ।