খালেদা জিয়ার আদর্শে ঐক্যের আহ্বান তানভীর আহমেদ রবিন তার বক্তৃতায় খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, শৈশবে তিনি নিজ হাতে খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তার বাবা জেলে থাকা অবস্থায়ও খালেদা জিয়া তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই মমতা, সাহস ও নেতৃত্বই তাকে রাজনীতিতে টেনে এনেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এত নির্যাতনের পরও খালেদা জিয়া কখনো প্রতিশোধের রাজনীতি করেননি; বরং তিনি জাতিকে ঐক্যের পথে ডাক দিয়েছেন।
আলেম সমাজের নিপীড়ন ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ রবিন বিগত বছরগুলোতে দেশের আলেম সমাজ, মসজিদের ইমাম ও খতিবদের উপর চালানো নিপীড়নকে 'নজিরবিহীন' বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মসজিদের খুতবার বক্তব্য পর্যন্ত সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। যারা এই নিয়ন্ত্রণ মানেনি, তাদের চাকরিচ্যুত করা, মামলা করা এবং কারাবরণ করতে হয়েছে।
সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর অবস্থান এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে রবিন সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, তার দলের কোনো নেতা বা কর্মী যদি সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা কিশোর গ্যাংকে আশ্রয় দেয়, তবে তাকে প্রথমে আইনের আওতায় আনা হবে এবং কেউ কোনো ছাড় পাবে না। তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন।
নাগরিক সুবিধা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ ঢাকা-৪ এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে পানি নিষ্কাশনের অভাব, জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি, রাস্তার বাতি এবং স্বাস্থ্যসেবার সংকটকে তুলে ধরেন রবিন। এসব সমস্যা সমাধানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে একটি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সরকারি জমি উদ্ধার করে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপন তিনি জানান, এলাকার সন্তানদের খেলাধুলার জন্য মাঠ নেই এবং কবর দেওয়ার জায়গার অভাব রয়েছে। তাই সরকারি জমি উদ্ধার করে সেখানে খেলার মাঠ, কবরস্থান, কমিউনিটি সেন্টার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তারুণ্যের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে তানভীর আহমেদ রবিন 'Tanvir Ahmed Robin' নামে একটি Google Play Store অ্যাপ চালু করার ঘোষণা দেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি অভিযোগ, পরামর্শ ও তথ্য পাঠাতে পারবেন, যেখানে তাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন থাকবে।
জিয়া-খালেদার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের স্মরণ রবিন বিএনপি সরকারের সময় প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কথা স্মরণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে শহীদ জিয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল, ডেমরা কলেজ, শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মাতুয়াইল মাতৃসদন হাসপাতাল।
তিনি বলেন, তিনি এই এলাকার মাটি দিয়েই তৈরি হয়েছেন এবং এই এলাকার মানুষের সেবা করেই এখানেই জীবন শেষ করতে চান। তিনি বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আন্দোলনে শহীদদের এবং অসুস্থ মুরুব্বিদের জন্য দোয়া কামনা করেন।