• আন্তর্জাতিক
  • ঢাকায় পা রাখছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন; ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য অর্জনে শুরু হচ্ছে নতুন ‘মিশন’

ঢাকায় পা রাখছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন; ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য অর্জনে শুরু হচ্ছে নতুন ‘মিশন’

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ঢাকায় পা রাখছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন; ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য অর্জনে শুরু হচ্ছে নতুন ‘মিশন’

আজ সন্ধ্যায় পৌঁছাচ্ছেন ক্রিস্টেনসেন; বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবেন পরিচয়পত্র, গুরুত্ব পাবে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক।

বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে এক নতুন কূটনৈতিক অধ্যায় শুরু করতে আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা পৌঁছাচ্ছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন এই রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানাতে মার্কিন দূতাবাস এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মনোনীত এই হেভিওয়েট কূটনীতিকের আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকার কূটনৈতিক পাড়ায় এখন বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কার্যভার গ্রহণের প্রস্তুতি ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে নিজের ‘ঢাকা মিশন’ শুরু করবেন ক্রিস্টেনসেন। ঢাকায় পৌঁছানোর পর প্রথম দুই দিন তিনি ব্যস্ত থাকবেন প্রশাসনিক ও প্রোটোকল সংক্রান্ত কার্যাদি নিয়ে। এই সময়ের মধ্যে তিনি পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের (Chief of Protocol) প্রধান নূরল ইসলামের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তার পরিচয়পত্র (Credentials) পেশ করার কথা রয়েছে।

শপথ গ্রহণ ও ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্যমাত্রা

গত ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে (State Department) এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে শপথ নেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর এক বার্তায় ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের সঙ্গে তার পুরনো সখ্যতার কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, "বাংলাদেশের সঙ্গে আমি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পরিচিত। পুনরায় এই দেশে ফিরতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। ঢাকার আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে আমি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে চাই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশিত লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধশালী করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করবেন।

পুরনো কর্মস্থলে নতুন পরিচয়ে ফেরা

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন ফরেন সার্ভিসের (US Foreign Service) একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। মজার বিষয় হলো, ঢাকার রাজপথ ও কূটনৈতিক অঙ্গন তার কাছে মোটেও অপরিচিত নয়। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর (Political and Economic Counselor) হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে বর্তমান চ্যালেঞ্জিং সময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পিটার হাসের উত্তরসূরি

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন পিটার হাস। ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার মেয়াদকালে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নানামুখী আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পিটার হাসের বিদায়ের পর ক্রিস্টেনসেনের ওপর এখন বড় দায়িত্ব—ট্রাম্প প্রশাসনের ‘America First’ পলিসির আলোকে ঢাকার সঙ্গে নতুন করে Strategic Partnership বজায় রাখা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

Tags: donald trump dhaka news global diplomacy bilateral ties diplomatic mission us ambassador brent christensen us embassy dhaka foreign service bangladesh us relations