সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও অপহরণের চেষ্টা
ভুক্তভোগী কৃষক ও সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, সোমবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক ১০৫১-১০৫২ নম্বর মেইন পিলার এলাকার পূর্ব গাছবাড়ী হলহলিয়া নদীর তীরবর্তী গম ক্ষেতে পাখি তাড়াতে যান জমশের আলী। এ সময় ভারতের আসাম রাজ্যের শিশুমারা ক্যাম্পের বিএসএফের ছয় সদস্য ককটেল ফাটিয়ে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েন। তারা কৃষক জমশের আলীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
গ্রামবাসীদের চিৎকারে পিছু হটে বিএসএফ
বিএসএফ সদস্যদের অনুপ্রবেশ এবং কৃষককে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় সীমান্তে বসবাসকারী লোকজন চিৎকার শুরু করলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী পিছু হটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য ও ইউপি সদস্যের বক্তব্য
ভুক্তভোগী কৃষক জমশের আলী মুঠোফোনে জানান, 'বর্ডারের কাছে আমার গম ক্ষেতে পাখি তাড়ানোর জন্য গেলে ভারতীয় বিএসএফ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে আমাকে ধরার চেষ্টা করে। পরে এলাকার লোকজন হৈহুল্লোড় করলে ককটেল ফাটিয়ে বিএসএফ চলে যায়। এতে আমরা আতঙ্কে রয়েছি।'।
দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, 'জমশের আলী নামের এক ব্যক্তি তার জমিতে গেলে ভারতের বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে সীমান্তের লোকজন চিৎকার করলে ককটেল বিস্ফোরণ করে তারা পিছু হটে।'
বিজিবি’র নীরবতা ও একই দিনে আরও একটি ঘটনা
এই বিষয়ে জানতে জামালপুর ৩৫ বিজিবি অধীন সাহেবের আলগা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মোনায়েমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
এদিকে একই দিন ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬২-১০৬৩ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় গুলি ছুড়ে মিস্টার আলী (২৫) নামের আরেক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএসএফের বিরুদ্ধে।