• আন্তর্জাতিক
  • অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় কড়াকড়ি: সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ ৪ দেশ, আবেদন প্রক্রিয়া হবে আরও কঠিন

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় কড়াকড়ি: সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ ৪ দেশ, আবেদন প্রক্রিয়া হবে আরও কঠিন

ভিসা আবেদনে 'স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত সমস্যার' কারণে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানকে ‘এভিডেন্স লেভেল থ্রি’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া, যা ভিসা প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ ও কঠিন করে তুলবে।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় কড়াকড়ি: সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ ৪ দেশ, আবেদন প্রক্রিয়া হবে আরও কঠিন

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদনকারীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ। ভিসা আবেদনে 'স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত সমস্যার' কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ক্যাটাগরি, অর্থাৎ 'এভিডেন্স লেভেল থ্রি'-তে অন্তর্ভুক্ত করেছে দেশটির সরকার। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, নেপাল এবং ভুটান। এর ফলে এখন থেকে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনেক বিস্তারিত ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠবে।

কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের নতুন নিয়ম

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউজ.কম.এইউ-এর এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল এই চার দেশের নাগরিক। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন দপ্তরের সাবেক উপসচিব ড. আবুল রিজভি জানান, অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’ভাবে চারটি দেশকে ‘এভিডেন্স লেভেল টু’ থেকে সরাসরি ‘এভিডেন্স লেভেল থ্রি'-তে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্বচ্ছতা সমস্যা মোকাবিলাই প্রধান লক্ষ্য

অস্ট্রেলিয়ার হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগের একজন মুখপাত্র গত ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের 'এভিডেন্স লেভেল' পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ভিসা আবেদনে নতুন করে সামনে আসা স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সুযোগও বজায় থাকবে।

মুখপাত্র আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ান সরকার চায়, শিক্ষার্থীরা দেশটিতে অবস্থানকালে একটি ইতিবাচক শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা লাভ করুক এবং উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণ করুক। এ জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থা ও স্টুডেন্ট ভিসা প্রোগ্রামে একটি শক্তিশালী কাঠামো থাকা জরুরি।

‘এভিডেন্স লেভেল থ্রি’ মানে কী?

'এভিডেন্স লেভেল থ্রি' রেটিংয়ের অর্থ হলো— ভিসা আবেদনকারী এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উভয়কেই এখন আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত ইতিহাস-সংক্রান্ত বিস্তারিত নথিপত্র জমা দিতে হবে।

এ বিষয়ে ড. রিজভি বলেন, এভিডেন্স লেভেল যত বেশি হয়, তত বেশি নথিপত্রের প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে কাগজপত্র যাচাইয়ে বাড়তি ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ থাকে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে ট্রান্সক্রিপ্ট যাচাই করা হতে পারে, এমনকি ব্যাংকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হতে পারে।

সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য কারণ ও প্রভাব

সাধারণত প্রতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে আগের বছরের তথ্যের ভিত্তিতে এসব রেটিং হালনাগাদ করা হয়। তবে বছরের শুরুতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে ড. রিজভি মনে করেন, গত ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতে বড় ধরনের জাল ডিগ্রি জালিয়াতি উদ্ঘাটনের ঘটনা প্রভাব ফেলতে পারে। সে সময় দেশটিতে এক লাখের বেশি সন্দেহজনক সনদ জব্দ করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান উৎস বাংলাদেশ। নতুন নিয়ম অনুসারে, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত পটভূমির ওপর আরও কঠোর নজরদারির সম্মুখীন হতে হবে। ভিসা আবেদনপ্রক্রিয়ায় আরও প্রমাণপত্র এবং দীর্ঘ যাচাইকরণ সময়কাল থাকবে। এতে অনেক শিক্ষার্থীর ভিসা পাওয়া কঠিন ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠবে।

ড. রিজভি, যিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সময় লাগবে।

তবে, অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৬ সালের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কোটা অপরিবর্তিত রেখেছে। গত অক্টোবরে জানানো হয়, এ বছর ২ লাখ ৯৫ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সুযোগ পাবে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ২৫ হাজার বেশি।

Tags: bangladesh australia education student visa high-risk category evidence level three visa application immigration international students