ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের ক্রমাগত দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এক তাৎপর্যপূর্ণ ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রোবার্তা মেতসোলা এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন। তিনি পার্লামেন্ট ভবনে ইরানের সব কূটনীতিক এবং ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের যে কোনো প্রতিনিধি’র প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন।
স্বাভাবিক সম্পর্ক আর সম্ভব নয়: ইইউ প্রধান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে রোবার্তা মেতসোলা তাঁর সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “ইরানের সাহসী জনগণ যখন নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য দাঁড়িয়ে আছে, তখন আগের মতো স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই সংসদ এমন কোনো শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দিতে সহায়তা করবে না, যা নির্যাতন, দমন-পীড়ন ও হত্যার মাধ্যমে টিকে আছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে মেতসোলা মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে ইইউর দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন।
আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ইইউর
এর আগে ইইউ জানিয়েছিল, ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় প্রয়োজনে তারা আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রস্তুত। সংস্থাটির মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস দমনপীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে ইইউ নতুন ও আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত। ইইউ ইতোমধ্যেই মানবাধিকার লঙ্ঘন, পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ইরানের ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, আলোচনার পথও খোলা: ইরান
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি এবং দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান একদিকে যেমন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তেমনি আলোচনার পথও খোলা রাখতে চায়। তেহরানে অবস্থানরত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে আরাঘচি মন্তব্য করেন, “ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।” একই সাথে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা আলোচনার জন্যও প্রস্তুত, তবে সেই আলোচনা হতে হবে ন্যায্য, সমতার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে।”
বিক্ষোভকে 'সহিংস ও রক্তক্ষয়ী' দাবি ইরানের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ চাচ্ছে। এর মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানে চলমান বিক্ষোভ ‘সহিংস ও রক্তক্ষয়ী’ রূপ নিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, এই অস্থিরতাকে বিদেশি হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এবং গত সপ্তাহান্তে সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে।