বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় অবস্থানের উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক সমীক্ষা সংস্থা ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’-এর ২০২৬ সালের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান গত এক বছরের ব্যবধানে পাঁচ ধাপ এগিয়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম, ২০২৬ সালে তা উন্নীত হয়েছে ৯৫তম স্থানে। বিশ্বজুড়ে নাগরিকদের অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা বা ‘গ্লোবাল মোবিলিটি’ (Global Mobility) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩৭ দেশে অন-অ্যারাইভাল ও ভিসা-মুক্ত সুবিধা
হেনলি ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে বিশ্বের ৩৭টি দেশ ও অঞ্চলে কোনো ধরনের পূর্ব-ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। এর মধ্যে অনেক দেশে ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ (Visa on Arrival) এবং কিছু দেশে সম্পূর্ণ ‘ভিসা-মুক্ত’ (Visa-free) প্রবেশের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর তুলনায় এই সংখ্যাটি কম, তবে গত বছরের তুলনায় র্যাঙ্কিংয়ে এই উল্লম্ফন বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর অবস্থান
পাসপোর্টের শক্তির বিচারে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। এই অঞ্চলের মধ্যে ভারত সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। নাইজার ও আলজেরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ৮০তম অবস্থানে আছে ভারত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ঠিক এক ধাপ নিচে অর্থাৎ ৯৬তম স্থানে রয়েছে নেপাল। চরম সংকটে থাকা পাকিস্তানের অবস্থান আরও নিচে, ৯৮তম। তালিকার একেবারে তলানিতে ১০১তম স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ভিসা নীতির পরিবর্তন ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই র্যাঙ্কিং (Ranking) নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।
শীর্ষে এশিয়ার দাপট: এক নম্বরে সিঙ্গাপুর
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় এবারও এশিয়ার জয়জয়কার। তালিকায় এককভাবে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা বিশ্বের ১৯২টি গন্তব্যে কোনো আগাম ভিসা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছে পূর্ব এশিয়ার দুই শক্তিশালী দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তাদের নাগরিকরা ১৮৮টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের অধিকার রাখেন।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের পাঁচটি দেশ—ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। চতুর্থ স্থানে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিসহ মোট ১০টি দেশ অবস্থান করছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে অভূতপূর্ব উন্নতি করে তালিকার ৫ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)।
কীভাবে নির্ধারিত হয় এই সূচক?
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স মূলত ‘ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন’ (IATA)-এর বিশেষ ডেটা বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর এই তালিকা প্রকাশ করে। ১৯৯টি ভিন্ন দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক তৈরি করা হয়। প্রতি মাসে এই ডেটা হালনাগাদ করা হয়, যা বিশ্বজুড়ে পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (Credible) হিসেবে বিবেচিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের পাসপোর্টের এই মানোন্নয়ন দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির (Diplomacy) জন্য একটি ভালো বার্তা। ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি সম্পন্ন করতে পারলে এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।