বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, একটি সম্ভাব্য গণভোটে (Referendum) 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়াই হবে তাদের দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সংবিধানের সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটের আয়োজন করা হয়, তবে বিএনপি তাতে সক্রিয় ও ইতিবাচক সাড়া দেবে।
গণভোটের মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কার দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে। এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য তারা সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারের উপর জোর দিচ্ছে। নজরুল ইসলাম খানের এই মন্তব্য সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকেই তুলে ধরল, যেখানে সংবিধান সংশোধন নিয়ে জনগণের সরাসরি মতামতের সুযোগ তৈরি হলে বিএনপি সেটিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
বিএনপির অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিএনপির শীর্ষ এই নেতা জানান, দল সবসময়ই সবার আগে সাংবিধানিক ও নির্বাচনকালীন সংস্কার চেয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থা জনগণের আস্থা হারিয়েছে, এবং এই আস্থার সংকট দূর করার একমাত্র উপায় হলো জনগণের সরাসরি রায় গ্রহণ করা। গণভোটের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তনের একটি গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক পথ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তারা।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নজরুল ইসলাম খানের এই ঘোষণা কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং সরকারকে সংস্কারের আলোচনার টেবিলে আসার জন্য একটি পরোক্ষ চাপও বটে। যেহেতু গণভোটের আয়োজন একটি বিশাল প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, তাই নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের মনোভাব এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিএনপি এখন এই ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।