• আন্তর্জাতিক
  • ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের আড়ালে ‘গণহত্যা’ চলছে: নোবেল বিজয়ীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের আড়ালে ‘গণহত্যা’ চলছে: নোবেল বিজয়ীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

শান্তি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সৃষ্ট বিক্ষোভের মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিকের ১ শতাংশে নেমে এসেছে।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের আড়ালে ‘গণহত্যা’ চলছে: নোবেল বিজয়ীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদি অভিযোগ করেছেন যে, দেশটির কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে নীরবে 'গণহত্যা' চালাচ্ছে এবং পরবর্তীতে তার সমস্ত চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। তিনি অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এবাদি এটিকে 'সংগঠিত হত্যাকাণ্ড' বলে বর্ণনা করেছেন, যা সরাসরি গুলি চালানোর মাধ্যমে ইন্টারনেট শাটডাউনের আড়ালে ঘটছে।

নোবেল বিজয়ীর উদ্বেগ ও দাবি

ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে শিরিন এবাদি লেখেন, “ইরান একটি সংগঠিত নীরবতায় পড়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ, যোগাযোগ অচল, সাক্ষীদের ভয় দেখানো এবং গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া মানে সরকার নীরবে হত্যাকাণ্ড চালাতে চায় এবং পরে তার চিহ্ন মুছে ফেলতে চায়।” তিনি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে ইন্টারনেট সেবা পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন।

১২ হাজার মৃত্যুর দাবি ও তথ্যের অস্পষ্টতা

এবাদি ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে মাঠপর্যায়ের তথ্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত উপাত্ত, পরিবার ও সাক্ষীদের বয়ান এবং উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা ও সরকারি সূত্রের তথ্য পর্যালোচনা করে উপসংহারে পৌঁছানো হয়েছে—৮ ও ৯ জানুয়ারি দুই রাত্রিতে অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এটিকে ইরানের সমকালীন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এই ১২ হাজারের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, কারণ দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

বিক্ষোভের সূচনা এবং যোগাযোগের অচলাবস্থা

২০২৫ সালের শেষের দিকে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইরানে বিক্ষোভের শুরু হয়, যা জানুয়ারি ২০২৬-এ তীব্র আকার ধারণ করে। এই তীব্রতা বৃদ্ধির পরপরই, ৮ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নেটব্লকসের তথ্যমতে, এই সেবা স্বাভাবিকের মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। এই ব্ল্যাকআউটের কারণে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভিন্ন তথ্য

অন্যদিকে, নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে যে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। কোনো কোনো সংস্থা ২ হাজার নিহতের তথ্যও দিচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান কারণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা।

সরকারের অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

ইরান সরকার এখনো শিরিন এবাদির এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের সরাসরি জবাব দেয়নি। তবে পূর্বে তারা বিক্ষোভকারীদের 'সন্ত্রাসী' এবং বিদেশি প্রভাবিত বলে দাবি করেছিল। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে উদ্বেগ বাড়ছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে।

Tags: middle east protest human rights iran genocide internet blackout shirin ebadi international investigation