ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয়ের পাশাপাশি অর্থের ঝনঝনানি দিয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়ল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বশেষ মৌসুমে শিরোপা উঁচিয়ে ধরার পাশাপাশি আয়ের ক্ষেত্রেও বিশ্বফুটবলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ফরাসি এই জায়ান্টরা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) উয়েফা প্রকাশিত ২০২৪-২৫ মৌসুমের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পিএসজি মোট ১৪৪.৪ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৬৮ মিলিয়ন ডলার) পুরস্কার অর্থ অর্জন করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিশাল অঙ্কের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী)। মূলত উয়েফার নতুন ও সম্প্রসারিত ‘League Format’-এর কারণেই ক্লাবগুলোর আয়ে এই ব্যাপক উল্লম্ফন ঘটেছে।
নতুন ফরম্যাট ও বর্ধিত অর্থ বণ্টন
উয়েফার নতুন কাঠামো অনুযায়ী, এবার ক্লাবগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত ৪০০ মিলিয়ন ইউরো বণ্টন করা হয়েছে। ৩৬টি দলের এই নতুন ফরম্যাটে প্রতিটি দল লিগ পর্বে অন্তত আটটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়ায় উয়েফার মোট ২.৪৭ বিলিয়ন ইউরোর বিশাল তহবিল থেকে প্রতিটি ক্লাবই আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। এবারের মৌসুমে পিএসজিসহ অন্তত সাতটি অভিজাত ক্লাব ১০০ মিলিয়ন ইউরোর আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যা ফুটবল ইতিহাসে এর আগে কখনও দেখা যায়নি।
পিছিয়ে নেই রানার্সআপ ইন্টার মিলান
পুরস্কার অর্থের তালিকায় পিএসজির ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রানার্সআপ হওয়া ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলান। তারা আয় করেছে ১৩৬.৬ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার সমান। উয়েফার ‘Revenue Distribution’ মডেল অনুযায়ী, পারফরম্যান্সের পাশাপাশি টেলিভিশন স্বত্ব এবং ক্লাবের ঐতিহাসিক র্যাঙ্কিংও এই আয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির আয় হ্রাসের কারণ
বিশাল আয়ের এই দৌড়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো ‘Tech-savvy’ ও ব্যবসায়িকভাবে সফল ক্লাবগুলো এবার কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্সেনালের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ পেয়েছে ১০২ মিলিয়ন ইউরোর কিছু কম, যা তাদের আগের বছরের আয়ের চেয়ে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ইউরো কম। অন্যদিকে, নকআউট ‘Play-off’ পর্বে অপ্রত্যাশিত হারে ম্যানচেস্টার সিটির আয় থেমেছে মাত্র ৭৬ মিলিয়ন ইউরোতে।
তিন স্তরের প্রতিযোগিতায় আয়ের ব্যবধান
উয়েফার আর্থিক প্রতিবেদনে তিন স্তরের প্রতিযোগিতার আয়ের বিশাল বৈষম্যও ফুটে উঠেছে, যা আধুনিক ফুটবলের ‘Market Value’-কে প্রতিফলিত করে। যেখানে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে পিএসজি ১৪৪ মিলিয়ন ইউরোর বেশি পেয়েছে, সেখানে দ্বিতীয় স্তরের ‘Europa League’ চ্যাম্পিয়ন টটেনহ্যাম পেয়েছে মাত্র ৪১ মিলিয়ন ইউরো। তৃতীয় স্তরের ‘Conference League’ জিতে চেলসির আয় হয়েছে মাত্র ২১.৮ মিলিয়ন ইউরো।
মজার বিষয় হলো, চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ হেরেও স্লোভাকিয়ার ক্লাব স্লোভান ব্রাতিস্লাভা প্রায় ২২ মিলিয়ন ইউরো আয় করেছে, যা কনফারেন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন চেলসির আয়ের চেয়েও বেশি। এটি প্রমাণ করে যে, ইউরোপীয় ফুটবলের মূল আসরে অংশগ্রহণ করাই এখন ক্লাবগুলোর জন্য সবথেকে বড় ‘Financial Success’ বা অর্থনৈতিক সাফল্যের চাবিকাঠি।