• রাজনীতি
  • যেভাবে টানা ৮ মাস আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী মোমেন: যুক্তরাষ্ট্রে বসে নিজেই জানালেন সব ঘটনা

যেভাবে টানা ৮ মাস আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী মোমেন: যুক্তরাষ্ট্রে বসে নিজেই জানালেন সব ঘটনা

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একেএম আব্দুল মোমেন ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে টানা ৮ মাস আত্মগোপনে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসে নিজেই জানালেন তার পালিয়ে থাকার রোমহর্ষক ঘটনা, যার মধ্যে ছিল চেহারা পরিবর্তন, ৬ বার সিম বদল, এবং সরকারি লোকের সাহায্যে দেশ ছাড়ার রহস্য।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
যেভাবে টানা ৮ মাস আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী মোমেন: যুক্তরাষ্ট্রে বসে নিজেই জানালেন সব ঘটনা

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে টানা আট মাস আত্মগোপনে ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. একেএম আব্দুল মোমেন। ৫ আগস্টের পর অন্য মন্ত্রী-এমপিদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান। ধরা পড়ার ভয়ে দেশে একাধিকবার বাসা ও মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন করে পালিয়ে থাকার কথা সম্প্রতি নিজেই মিডিয়ার সামনে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

আত্মগোপনে থাকার বর্ণনা: পালানোটা সিনেমার মতো

সম্প্রতি ভার্চ্যুয়াল মিডিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে ড. একেএম আব্দুল মোমেন দেশে পালিয়ে থাকার পুরো ঘটনা স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বর্ণনা করেন। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের কিছুদিন আগে তিনি আমেরিকা থেকে দেশে ফেরেন এবং এর পরপরই অভ্যুত্থান শুরু হলে তাকে আত্মগোপনে যেতে হয়। এই পুরো ঘটনাটি 'একটি সিনেমা হতে পারে' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আই ওয়াজ দ্য লাস্টম্যান টু লিভ দ্য কান্ট্রি' (আমিই সম্ভবত সবার শেষে দেশ ছেড়েছি)। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো অন্যায় বা চুরি-চামারি করেননি, তাই পালাতে চাননি। কিন্তু যখন একজন কর্নেল তাকে ফোন করে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলেন এবং সবাই জানায় তার মোবাইল নম্বর ট্র্যাক হয়ে গেছে, তখনই তিনি দ্রুত পালিয়ে যান।

আত্মীয়ের বাড়িতে না থেকে ভাড়া বাসায় আশ্রয়

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেননি, কারণ তার সব আত্মীয়-স্বজনই 'পাবলিকলি নোউন' বা পরিচিত। তিনি অন্যান্য সাধারণ লোকের 'রেন্ট হাউসের' (ভাড়া করা বাড়ি) বাড়িতে ছিলেন, যা তার আত্মগোপনে থাকার জন্য খুব কাজে দিয়েছিল। এমন একটি বাড়ির মালিকের সঙ্গে তার কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে মোমেন জানান, ওই মালিক একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এবং তার বাসাটি ক্রেতাদের জন্য সুন্দর করে রাখা। কিন্তু বর্তমানে বায়াররা দেশে না আসায় বাসা খালি ছিল, তাই তিনি ভাড়া পাচ্ছিলেন।

চেহারায় পরিবর্তন ও ৬ বার সিম বদল

ড. মোমেন বলেন, জনতার 'মবের শিকার' হওয়ার আশঙ্কায় বাইরে কেউ যাতে চিনতে না পারে, সেজন্য তিনি চেহারা-টেহারা সব পরিবর্তন করে ফেলেন এবং দাড়িও রাখেন। লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের ভয় এড়াতে তাকে মোবাইল ফোনের সিম কার্ড পরিবর্তন করতে হয়েছে মোট ছয়বার। আত্মগোপনে থাকার সময় এক নাপিতের কাছে তিনি অন্য এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চুল কাটান, যাতে ওই নাপিতও তার অবস্থান সম্পর্কে কাউকে কিছু জানাতে না পারে। তিনি এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারার জন্য তার স্ত্রীর চাপ ও বুদ্ধিকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, 'এটা লং স্টোরি। বহুত কষ্ট করে বের হয়েছি। আমার বউয়ের প্রেসারে ও উনার বুদ্ধিতে বের হয়েছি।'

দেশ ছাড়ার ঘটনায় রহস্য

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মোমেন জানান, কীভাবে তিনি দেশ ছেড়েছেন সেই প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে চাননি। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি শাহজালাল বিমানবন্দর নাকি অন্য কোনো বিমানবন্দর থেকে দেশ ছেড়েছেন? জবাবে তিনি বলেন, 'বিমানবন্দর তো আপনি যেতেই পারবেন না। ধারে কাছেও না। এটা পালাইয়া আসছি। কীভাবে? বিভিন্নভাবে পালিয়ে আসছি। বলা যাবে কোনো এক সময়। এখনো বলতে চাচ্ছি না। কারণ, সরকারি লোকরাই আমাকে সাহায্য করেছে।' কীভাবে তিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেন, সে বিষয়টি এখনো বলার সময় আসেনি জানিয়ে তিনি রহস্য জিইয়ে রাখেন।

মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি

উল্লেখ্য, ড. একেএম আব্দুল মোমেন চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় হামলার ঘটনায় সিলেটের বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত হত্যা, হামলা-ভাংচুর ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

Tags: politics awami league akm abul momen ex-foreign minister student-people's uprising 2024 self-exile