গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের বিস্তারিত
এনসিপির মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার সকালে ৩৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত তাদের সাংগঠনিক অফিসে গুলির ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা অফিসের ভেতরে থাকা ব্যানার, ফেস্টুন এবং দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ছবিও ভাঙচুর করে। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গণভোট নিয়ে নাহিদ ইসলামের অবস্থান
এই হামলার ঠিক একদিন আগেই, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলামটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে গণভোটে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে প্রচারণার 'ক্যারাভ্যান' উদ্বোধন করেছিলেন নাহিদ ইসলাম। সে সময় তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের 'না' ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
'না' ভোট পাস হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে: নাহিদ
নাহিদ ইসলাম তার বক্তৃতায় বলেছিলেন, "হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলা সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব ছিল। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি একটা বিশেষ দল 'না'-এর পক্ষে কথা তুলছে। আমরা বলতে চাই, গণভোটে 'না' পাস হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে।" তিনি মানুষকে সচেতনভাবে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান, কারণ তার মতে, এই ভোট বাংলাদেশকে আগামী ৫০ বছর এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এনে দেবে। 'না' ভোট পাস হলে দেশে পুরোনো পদ্ধতিই বহাল থাকবে এবং ফলে জুলাই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে বলে তিনি মত দেন।
১১ দলীয় জোট ও সংস্কারের অঙ্গীকার
এনসিপি আহ্বায়ক আরও উল্লেখ করেন, যদি ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে জয়ী হয়, তবে তারা সরকার গঠন করে দেশের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করবে। তিনি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং সস্তা প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার মতো বিষয়গুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা 'হ্যাঁ' ভোট ব্যর্থ হলে আবারও দেশে ফিরে আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
দেশজুড়ে 'হ্যাঁ' ভোটের প্রচারণা
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, সারা দেশে গণভোটের পক্ষে তাদের প্রচার শুরু হয়েছে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এই প্রচারণার মধ্যেই নাহিদ ইসলামের অফিসে হামলার ঘটনাটি ঘটলো।