নিজেদের শুদ্ধ করার আহ্বান: ‘দলভারী করতে অপরাধীর প্রয়োজন নেই’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘কেউ যদি চাঁদাবাজি বা মাস্তানি করতে চান, তবে দয়া করে এখনই বিএনপি ছেড়ে চলে যান। এই দলে চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের কোনো ঠাঁই নেই।’ তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, গুটি কয়েক অপরাধী দল ত্যাগ করলে বিএনপির জনসমর্থন বা ভোটের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, বরং দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
শান্তির রাজনীতি ও ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য
দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি এখন সংঘাতের বদলে স্থিতিশীলতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আমির খসরু বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে আমাদের আদর্শিক বা মতাদর্শগত পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিএনপি কোনো সংঘর্ষ বা সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা একটি সুস্থ ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং একটি সমৃদ্ধ ও নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।’ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের সেবা করাই এখন বিএনপির মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থনৈতিক সংস্কার ও সামাজিক সমতা
দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে দারিদ্র্য ও Unemployment বা বেকারত্ব দেশের প্রধান সমস্যা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কেবল মেগা প্রজেক্ট নয়, বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দিকে নজর দেবে। তার ভাষায়, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে অর্থনীতির বিকেন্দ্রীকরণ এবং Economic Democracy বা অর্থনৈতিক গণতন্ত্র নিশ্চিত করব। কামার, কুমার, শ্রমিক ও নারীসহ সকল পেশার মানুষের জন্য সমতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে।’
দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মেগা প্রজেক্টের নামে জনগণের টাকা লুটপাট করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে Money Laundering বা টাকা পাচারের রাজনীতি বন্ধ করবে। দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং Job Creation-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার গঠনই এখন বিএনপির একমাত্র রাজনৈতিক এজেন্ডা।
খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের স্মৃতিচারণ
অনুষ্ঠানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে আমির খসরু বলেন, ‘বেগম জিয়া সবসময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় অনেকে আপস করে নির্বাচনে অংশ নিলেও খালেদা জিয়া নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।’ বর্তমান নেতা-কর্মীদেরও সেই আপসহীন আদর্শ ধারণ করে জনগণের আস্থা অর্জনের পরামর্শ দেন তিনি।
পতেঙ্গা ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমুখী রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।