• আন্তর্জাতিক
  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা, গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয়দের সেনা সমাবেশ শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা, গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয়দের সেনা সমাবেশ শুরু

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা, গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয়দের সেনা সমাবেশ শুরু

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অচলাবস্থার পর আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সৈন্য মোতায়েন শুরু হয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ও সুইডেনের মতো দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করতে সেনা পাঠাচ্ছে, যা ভূখণ্ডে নিজেদের উপস্থিতির প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা উত্তোলনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সামরিক উপস্থিতি

গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরেই ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে সেনা সমাবেশ শুরু করেছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুসারে, ফ্রান্স এরই মধ্যে ১৫ জন এবং জার্মানি ১৩ জন সেনা পাঠিয়েছে। এই প্রতীকী মিশনে নরওয়ে ও সুইডেনও অংশ নিচ্ছে। এই সেনা মোতায়েনকে 'রিকগনিশন অব দ্য টেরিটরি' বা ভূখণ্ডের উপস্থিতি জানানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ নিশ্চিত করেছেন যে প্রথম ফরাসি সামরিক দল ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডের পথে রয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও সদস্য যোগ দেবে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাউন্টেন ইনফ্যান্ট্রি ইউনিটের সেনারা গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক শহরে পৌঁছেছে। দুই দিনের এই মিশনের উদ্দেশ্য হলো—প্রয়োজনীয় মুহূর্তে ইউরোপীয় সেনাদের দ্রুত মোতায়েনের সক্ষমতা প্রদর্শন করা। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও গোয়েন্দা ও পর্যবেক্ষণ দল পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ট্রাম্পের 'গ্রিনল্যান্ড দখলের' অভিপ্রায়

এই সেনা সমাবেশের ঘটনা ডেনমার্কের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির ঘোষণার পরই ঘটল। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত ছিলেন।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানান, ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের অভিপ্রায় থেকে ওয়াশিংটনকে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা আমেরিকার অবস্থান বদলাতে পারিনি। এটা স্পষ্ট যে প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান।" বৈঠকের পর ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের সত্যিই গ্রিনল্যান্ড দরকার। আমরা সেখানে না গেলে রাশিয়া যাবে, চীন যাবে। ডেনমার্ক কিছুই করতে পারবে না, কিন্তু আমরা সবকিছু করতে পারি।"

ইনুইট জনগোষ্ঠীর উদ্বেগ

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতি এবং খনিজ সম্পদ আহরণের পরিকল্পনা স্থানীয় ইনুইট জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দ্বীপটির পশ্চিমাঞ্চলের ইলুলিসাত শহরের বাসিন্দারা তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।

ইলুলিসাত আইসফিয়র্ড ভিজিটর সেন্টারের প্রধান কার্ল স্যান্ডগ্রিন এক সাক্ষাৎকারে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আশা প্রকাশ করে বলেন, "আমরা সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা ইনুইট, হাজার হাজার বছর ধরে এখানে বাস করছি। এটা আমার মেয়ে ও ছেলের ভবিষ্যৎ। এটা কেবল সম্পদের কথা ভাবা মানুষের ভবিষ্যৎ নয়।"

Tags: donald trump europe ডেনমার্ক usa greenland arctic france military deployment germany