রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে একটি আবাসিক ভবনে (Residential Building) লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একই পরিবারে বিষাদের সুর: নিভে গেল তিন প্রাণ
অগ্নিকাণ্ডের এই বিভীষিকা কেড়ে নিয়েছে একটি সাজানো গোছানো পরিবারের তিন সদস্যকে। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে— তারা হলেন কাজী ফজলে রাব্বি (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের মাত্র দুই বছর বয়সী ছোট ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফজলে রাব্বি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে (SK+F Pharmaceuticals Ltd.) কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস (Square Pharmaceuticals) এর সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। দম্পতি দুজনেই কর্মজীবী হওয়ায় তাদের দুই সন্তান সাধারণত উত্তরার অন্য একটি বাসায় নানির কাছে থাকত। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় গত রাতেই ছোট ছেলে রিশানকে নিজেদের কাছে নিয়ে এসেছিলেন তারা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই শেষ দেখাই কাল হলো; ভোরের আগুনেই নিভে গেল তাদের জীবনপ্রদীপ।
অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর তৎপরতা ও উদ্ধার অভিযান
ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানিয়েছেন, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ৭টা ৫৪ মিনিটে উত্তরা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত Emergency Response শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রায় আধা ঘণ্টার নিবিড় চেষ্টায় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।
তদন্ত ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
ভবনটিতে পর্যাপ্ত Fire Safety ব্যবস্থা ছিল কি না, কিংবা আগুনের প্রকৃত উৎস শর্ট সার্কিট না কি গ্যাস লিক— তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকাটিতে এখন গভীর নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আবাসিক ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের প্রাণহানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে বিশেষ তদারকি চালানো হচ্ছে।