নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ছাত্রদল কর্মী জাহিদুল ইসলাম (২৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। দীর্ঘ গোয়েন্দা তৎপরতার পর কুষ্টিয়া জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী ও স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে নরসিংদী শহরের র্যাব-১১ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
যৌথ অভিযানে র্যাবের সাফল্য
র্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ক্যাম্প কমান্ডার আরিফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১১ নরসিংদী ও র্যাব-১২ কুষ্টিয়ার দুটি চৌকস দল এই Joint Operation পরিচালনা করে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার বটতৈল ভাদালিয়া এলাকা থেকে আসামিদের আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার নওয়াপাড়া গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে রাজন (৩৭) এবং তার স্ত্রী জারা (৩০)।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও নেপথ্য কাহিনী
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, নিহত জাহিদুল ইসলাম পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের গয়েশপুর এলাকার মোশারফ হোসেন ভূইয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। গত ২৯ ডিসেম্বর জাহিদুলকে কৌশলে তার নিজ বাড়ি থেকে ডেকে মাধবদী থানার নওয়াপাড়া এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘাতকরা। ঘটনার পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে রাজন ও জারাকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
স্বীকারোক্তি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া
র্যাব জানায়, গ্রেফতারের পর Primary Interrogation বা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজন ও জারা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের সংশ্লিষ্ট মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ক্যাম্প কমান্ডার আরিফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ়তার সাথে জানান, "অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের বিশেষ অভিযান বা Campaign অব্যাহত রয়েছে।"
নিরাপত্তা ও বিচারপ্রক্রিয়া
এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে জাহিদুল হত্যা মামলায় এক বড় ধরণের অগ্রগতি অর্জিত হলো। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং নিহতের পরিবার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নরসিংদীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে জেলা পুলিশ ও র্যাব নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।