বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমন এক আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তৈরি করেছেন, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। রাজধানীর ঢাকা-৯ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও প্রভাবশালী নেতা হাবিবুর রশিদ হাবিব এই মন্তব্য করেছেন। তার মতে, আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে ১৮ কোটি মানুষ সমান নাগরিক সুবিধা ভোগ করবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর মান্ডা গ্রিন মডেল টাউনে অবস্থিত 'শান্তিকানন সোসাইটি'র বাৎসরিক মিলনমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
১৮ কোটি মানুষের অধিকারের লড়াই
হাবিবুর রশিদ হাবিব তার বক্তব্যে তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও আগামীর লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, তা কেবল কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশ। সেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজের পূর্ণ অধিকার বাস্তবায়ন করতে পারবে। ‘আমি এই দেশের একজন নাগরিক এবং রাষ্ট্র আমার অধিকার রক্ষায় বাধ্য’—এই আত্মবিশ্বাসই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল ভিত্তি (Foundation)।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রতিটি মানুষের মধ্যে এই নাগরিক চেতনা জাগ্রত করাই বিএনপির রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য।
জবাবদিহিতা ও আগামীর গণতন্ত্র
সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্বারোপ করে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণের ‘Mandate’ বা গণরায়ই হলো শেষ কথা। তিনি মনে করেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যখন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন, তখনই গণতন্ত্রের সার্থকতা আসবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “পারিবারিক ও সামাজিক সুদৃঢ় বন্ধন থেকেই দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং ‘Democratic Consciousness’ বা গণতান্ত্রিক চেতনার জন্ম হয়। মানুষের মধ্যে ত্যাগের মানসিকতা যত দৃঢ় হবে, দেশ তত দ্রুত এগিয়ে যাবে।”
শহীদদের ঋণ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে শহীদদের অবদানের কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশের সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অধিকার রক্ষায় যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা সমসাময়িক রাজনীতির বড় প্রেরণা। এছাড়া সম্প্রতি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে আমাদের প্রতিটি নাগরিককে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি জবাবদিহিমূলক (Accountability) রাষ্ট্র গঠন করাই আমাদের একমাত্র চ্যালেঞ্জ।”
অনুষ্ঠানে শান্তিকানন সোসাইটির সদস্যবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি এলাকার সামাজিক সম্প্রীতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।