জনপ্রিয় উপস্থাপক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার রাফসান সাবাব এবং আলোচিত সংগীতশিল্পী জেফার রহমানের বিয়ের খবর এখন নেটদুনিয়ায় টক অব দ্য টাউন। দীর্ঘদিনের গুঞ্জনকে সত্যি করে এই তারকা যুগল পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই নেটিজেনদের নজর ছিল রাফসানের সাবেক স্ত্রী সানিয়া শামসুন এশার দিকে। অবশেষে বিয়ের দুই দিন পর নিজের নির্লিপ্ততা ভেঙে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি। যেখানে উঠে এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম, গভীর মানসিক আঘাত (Mental Trauma) এবং নিজের আত্মপরিচয় নিয়ে নতুন করে পথচলার দৃঢ় অঙ্গীকার।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক হ্যান্ডেলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এশা বর্তমান পরিস্থিতি এবং তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠার সংগ্রাম
সানিয়া এশা তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, গত কয়েক বছর তার জীবনে চরম অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে গেছে। তিনি জানান, বিচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে তাকে গভীর মানসিক আঘাত সহ্য করতে হয়েছে। এশা লেখেন, "আমি নিজে একটি অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি—অনেক কিছু সহ্য করেছি, গভীর মানসিক আঘাত পেরিয়ে এসেছি এবং সেই অবস্থান থেকে উঠে এসে নিজের জন্য কিছু অর্জন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি।" জীবনের এই প্রতিকূল সময়ে যারা তার পাশে ছিলেন এবং যারা সামাজিক মাধ্যমে তাকে নৈতিক সমর্থন (Moral Support) দিয়েছেন, তাদের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
পেশাদার পরিচয়ে নতুন সূচনা
রাফসানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সানিয়া শামসুন এশা এখন নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অতীতের কোনো বিতর্ক বা পরিচয়ে আর পরিচিত হতে চান না তিনি। একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের নাম ও পরিচয়কে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এখন তার একমাত্র লক্ষ্য। এশা তার পোস্টে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "আমি আর আমার অতীত পরিচয় বহন করতে চাই না, কিংবা আগে যাকে চিনতাম তার সঙ্গে নিজের নাম জড়িয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে চাই না। আমি চাই আমার পরিচয় হোক শুধু একটাই— 'ডা. এশা'।"
গুঞ্জন ও সত্যের মুখোমুখি
রাফসান ও জেফারের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিনোদন জগতে কানাঘুষা চলছিল। যদিও এতদিন তারা বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছিলেন, তবে ১৬ জানুয়ারি বিয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে সেই জল্পনার অবসান ঘটে। এ প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক মন্তব্য না করলেও এশা ইঙ্গিতে অনেক কিছুই বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই জানে বর্তমানে কী ঘটছে এবং সত্যটা কী। এ বিষয়ে আমার আর বেশি কিছু বলার প্রয়োজন মনে করি না।" জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি অন্যের ব্যক্তিগত জীবন (Private Life) নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ।
ফিরে দেখা: অতীত সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের অক্টোবরে পারিবারিকভাবে সানিয়া এশা ও রাফসান সাবাবের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। দীর্ঘ তিন বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০২৩ সালের শেষ দিকে তারা বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। সে সময় থেকেই জেফার রহমানের সঙ্গে রাফসানের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। যদিও সেই সময় রাফসান বা জেফার কেউই এই সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেননি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এশার এই সাহসী অবস্থান এবং পেশাদার জীবনের প্রতি তার একাগ্রতা নেটিজেনদের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে।
নিজের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এশা তার বক্তব্য শেষ করেন এই বলে যে, তিনি এমন কিছু গড়ে তুলতে চান যা কোনো বিপর্যয় বা কঠিন সময়ে তাকে অসহায় করে দেবে না। জীবনের নতুন এই ইনিংসে তিনি শুধুমাত্র নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চান।