• আন্তর্জাতিক
  • গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় ট্রাম্প: বিরোধিতা করলেই ‘শুল্ক’ যুদ্ধের হুমকি, উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতি

গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় ট্রাম্প: বিরোধিতা করলেই ‘শুল্ক’ যুদ্ধের হুমকি, উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় ট্রাম্প: বিরোধিতা করলেই ‘শুল্ক’ যুদ্ধের হুমকি, উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতি

ডেনমার্ককে হুঁশিয়ারি দিয়ে ভেনিজুয়েলার প্রসঙ্গ টানলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট; পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় কোনো দেশ বাধা দিলে তাদের ওপর কঠোর শুল্ক (Tariff) আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার (National Security) স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড দখল প্রয়োজন।

জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই ও শুল্কের হুঁশিয়ারি

বৈঠকে ট্রাম্প তার আগ্রাসী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “যেসব দেশ গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিরোধিতা করবে বা আমাদের সঙ্গে একমত হবে না, আমি তাদের ওপর উচ্চহারে শুল্ক বসাতে পারি। কারণ, এটি কেবল কোনো ভূখণ্ড নয়, বরং আমেরিকান ন্যাশনাল সিকিউরিটির জন্য একটি অপরিহার্য কৌশলগত অঞ্চল।” তবে ঠিক কোন কোন দেশের ওপর এই বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বা শুল্কের খড়্গ নেমে আসতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তালিকা প্রকাশ করেননি তিনি।

ডেনমার্ককে হুঁশিয়ারি ও ভেনিজুয়েলা প্রসঙ্গ

গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ছাড়তে নারাজ ডেনমার্ককে কার্যত সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং চীনের আর্কটিক অঞ্চলের প্রতি আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাশিয়া বা চীন যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায়, তবে ডেনমার্কের কিছুই করার সক্ষমতা নেই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। আমাদের সক্ষমতা কতটা, তা আপনারা ভেনিজুয়েলার ঘটনাতেই প্রমাণ পেয়েছেন।” ভেনিজুয়েলা প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, প্রয়োজনে ওয়াশিংটন সামরিক শক্তি বা ‘পাওয়ার পলিটিক্স’ প্রয়োগের পথেও হাঁটতে পারে।

ইউরোপের পাল্টা প্রতিরোধ ও সেনা মোতায়েন

ট্রাম্পের এই হুমকির মুখে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নড়েচড়ে বসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। ডেনমার্কের বিশেষ অনুরোধে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সামরিক সদস্যরা গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবারই গ্রিনল্যান্ডে সীমিত সংখ্যক ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন করা হয়। ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি রোধে মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করলেও উত্তেজনা হ্রাসের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ

এদিকে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন বিশেষ দূত (Special Envoy) জেফ ল্যান্ড্রি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি হওয়া সময়ের দাবি। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কাজ শুরু করেছেন। ল্যান্ড্রি আগামী মার্চে গ্রিনল্যান্ড সফরের পরিকল্পনাও করছেন।

তবে ইউরোপীয় জোটে ফাটল ধরিয়েছে পোল্যান্ডের অবস্থান। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডনাল্ড টাস্ক এই পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপকে একটি ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পোল্যান্ড কোনোভাবেই এই সেনা মোতায়েন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না। পোল্যান্ডের এই পিছুটান ন্যাটোর (NATO) অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।