• খেলা
  • বিশ্বকাপের মঞ্চে কি দেখা যাবে লাল-সবুজকে? বড় সুখবর শোনালেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

বিশ্বকাপের মঞ্চে কি দেখা যাবে লাল-সবুজকে? বড় সুখবর শোনালেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

খেলা ১ মিনিট পড়া
বিশ্বকাপের মঞ্চে কি দেখা যাবে লাল-সবুজকে? বড় সুখবর শোনালেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

বাফুফের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবলে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে ফিফা; হামজা-মোরসালিনদের জমানায় নিকট ভবিষ্যতেই ‘বিশ্বকাপের স্বপ্ন’ পূরণের জোরালো সম্ভাবনা।

বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ১৮০তম হলেও, লাল-সবুজ পতাকাকে ঘিরে বড় এক স্বপ্ন বুনছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA)। সম্প্রতি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এক বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি নিকট ভবিষ্যতেই বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে দেখার জন্য অধীর অপেক্ষায় আছেন। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমদের মতো প্রতিভাদের হাত ধরে বাংলাদেশের ফুটবল যখন এক নতুন বাঁক বদলের অপেক্ষায়, তখন ফিফা সভাপতির এমন আশার বাণী ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

হামজা-মোরসালিনদের নিয়ে নতুন দিনের ফুটবল

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল দক্ষিণ এশিয়ায় দাপট দেখালেও, পুরুষদের ফুটবলে বড় কোনো সাফল্য আসছিল না। ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের (SAFF Championship) পর দীর্ঘ দুই দশক শিরোপা খরায় ভুগছে লাল-সবুজরা। তবে বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। প্রিমিয়ার লিগের উদীয়মান তারকা শেখ মোরসালিন কিংবা লেস্টার সিটির তারকা হামজা চৌধুরীর মতো ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া ফুটবল সমর্থকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এই 'ট্যালেন্ট পুল' (Talent Pool) ও প্রবাসী খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী স্কোয়াড তৈরির পরিকল্পনা করছে বাফুফে (BFF)।

ইনফান্তিনোর আশাবাদ ও ফিফার বিনিয়োগ

সম্প্রতি এক বাংলাদেশি ভক্তের প্রশ্নের জবাবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “অবশ্যই বাংলাদেশ ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারবে। ফিফার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য উদীয়মান দেশগুলোকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের স্বাদ পাইয়ে দেওয়া।”

ইনফান্তিনো আরও জানান যে, ফিফা কেবল মৌখিক সমর্থনই দিচ্ছে না, বরং সরাসরি বিনিয়োগের (Investment) মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবলের পরিকাঠামো বা ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ (Infrastructure) উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমরা বাফুফের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবলে অনেক অর্থ বিনিয়োগ করছি। এর ফলে দেশে ফুটবল একাডেমি ও খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে।”

৪৮ দলের মহাযজ্ঞ: বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ

২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। দল সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে ৪৮ হওয়ায় এশিয়া মহাদেশ থেকেও বেশি সংখ্যক দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। ইনফান্তিনো উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন উজবেকিস্তান ও জর্ডানের কথা, যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে (Ranking) পিছিয়ে থাকলেও, ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও উন্মাদনা ফিফার কাছে বরাবরই প্রশংসিত। ফিফা সভাপতির মতে, এই আবেগকেই সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের সদস্য সংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার পরিকল্পনাও ফিফার টেবিলে রয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ফুটবল জাতিগুলোর জন্য এক বিশাল মাইলফলক হতে পারে।

স্বপ্ন যখন বাস্তবের পথে

বর্তমানে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা (Long-term Plan) নেওয়া হয়েছে, তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মাঠের খেলায়। ফিফা সভাপতির এই বার্তা কেবল একটি শুভেচ্ছা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমদের মতো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন খেলোয়াড়রা যদি লাল-সবুজ জার্সিতে নিয়মিত হন, তবে নিকট ভবিষ্যতেই ফিফা বিশ্বকাপের থিম সংয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উড়তে পারে বাংলাদেশের পতাকা।

Tags: hamza choudhury bangladesh football world cup 2026 asian football fifa president gianni infantino bff news world cup dream football investment talent development