আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের আপিল শুনানির আজ অষ্টম দিন। আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়েছে।
অষ্টম দিনের কর্মব্যস্ততা ও ১০০ আপিল
পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ মোট ১০০টি আপিল আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সকাল থেকেই প্রার্থীরা তাঁদের আইনি প্রতিনিধি ও সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে ভিড় জমাচ্ছেন। একেকটি আবেদনের শুনানি শেষে প্রার্থীরা বেরিয়ে এসে গণমাধ্যমের সামনে তাঁদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। অধিকাংশ প্রার্থীই আশা প্রকাশ করছেন যে, উচ্চতর এই আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
সপ্তম দিনের খতিয়ান: সন্তোষ ও আক্ষেপের চিত্র
গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ছিল আপিল শুনানির সপ্তম দিন। সেদিন মোট ৪৩টি আবেদনের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৮টি আবেদন মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission), অর্থাৎ তাঁরা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। অন্যদিকে, ১৭টি আবেদন নামঞ্জুর বা খারিজ করা হয়েছে।
এছাড়া, কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪টি আবেদন কমিশন নামঞ্জুর করেছে এবং ৪টি আবেদনের সিদ্ধান্ত আপাতত অপেক্ষমাণ (Pending) রাখা হয়েছে।
মনোনয়নপত্রের সার্বিক পরিসংখ্যান
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জানুয়ারি ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিন। ওই দিন রিটার্নিং কর্মকর্তারা সারা দেশে জমা পড়া মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ ঘোষণা করেন। ত্রুটিপূর্ণ বা তথ্যের ঘাটতি থাকায় বাতিল করা হয় ৭২৩ জন প্রার্থীর আবেদন।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং নিজেদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এখন ধারাবাহিক শুনানির মাধ্যমে এই জটিলতা নিরসনের চেষ্টা চলছে।
নির্বাচনী রোডম্যাপ: পরবর্তী ধাপগুলো কী কী?
কমিশনের ঘোষিত তফসিল (Election Schedule) অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। এরপর ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক (Symbol) বরাদ্দ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। প্রতীক পাওয়ার পর ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নির্বাচনী প্রচারণা (Campaign) শুরু করতে পারবেন। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চলবে প্রচার-প্রচারণা। এরপর সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচনের কাঙ্ক্ষিত ভোটগ্রহণ।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, আপিল শুনানির এই পর্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে আইনি ত্রুটি নিরসনের মাধ্যমে অনেক জনপ্রিয় প্রার্থী লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ পান, যা নির্বাচনের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।