• দেশজুড়ে
  • সাতক্ষীরায় পুরোনো জোটের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা: সাংগঠনিক শক্তিতে জামায়াত, বিভেদের চ্যালেঞ্জে বিএনপি

সাতক্ষীরায় পুরোনো জোটের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা: সাংগঠনিক শক্তিতে জামায়াত, বিভেদের চ্যালেঞ্জে বিএনপি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
সাতক্ষীরায় পুরোনো জোটের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা: সাংগঠনিক শক্তিতে জামায়াত, বিভেদের চ্যালেঞ্জে বিএনপি

জেলার চারটি আসনে প্রধান লড়াই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর; সাতক্ষীরা-৩ আসনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কারণে বিএনপি’র ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা; বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা এখন ২০ জন।

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিলেও, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (National Parliament Election) সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, এবার এই দুই পুরোনো জোট শরিকের মধ্যেই মূলত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা (Rivalry) হতে চলেছে।

জেলার চারটি আসনে প্রার্থী হতে মোট ২৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও, যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ২০ জন। সব আসনেই বিএনপি এবং জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু না হলেও প্রার্থীরা এখন বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির আড়ালে নিজেদের ‘ভোট ক্যাম্পেইন’ (Vote Campaign) চালাচ্ছেন।

সাংগঠনিক অবস্থান ও নির্বাচনী ইতিহাস

সীমান্তঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামীর একটি শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান (Strong Organizational Base) রয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল না থাকায় দলটি অনেক আগেই চারটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নামে। অন্যদিকে, বিএনপির মনোযোগ ছিল ইউনিয়ন কমিটি গঠন এবং দলীয় কোন্দল নিরসনে। যদিও কিছু আসনে বিরোধ মিটেছে, তবে একটি আসনে বিএনপির এক নেতা ‘বিদ্রোহী’ (Rebel Candidate) প্রার্থী হওয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার নির্বাচনী ইতিহাসে জামায়াতের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। ১৯৯১ সালের জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিই জামায়াতের দখলে ছিল। ২০০১ সালে জামায়াত তিনটি আসনে জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে আসনসংখ্যা কমে চারটি হয়, তবে সেবার বিএনপি ও জামায়াত কোনো আসনই পায়নি।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল আজিজ এই নির্বাচনে চারটি আসনেই বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদের মতে, সব ‘স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি’ ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়ী করবে।

আসনের চিত্র: ভোট বিভাজনের আশঙ্কা

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া)

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম (হাবিব)। তাঁর নিজস্ব ‘ভোটব্যাংক’ (Votebank) রয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ, যিনি ‘ব্যক্তি ইমেজের’ পাশাপাশি সাংগঠনিক শক্তির কারণে বেশ শক্তিশালী।

এই আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব মো. ইয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় এনজিও বিষয়ক সম্পাদক জিয়াউর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা)

জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. আবদুর রউফকে প্রার্থী করার পর বিরোধ দেখা দিলেও, বর্তমানে বিএনপির সবাই ‘এক’ বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক। অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, বাংলাদেশ জাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি - LDP) প্রার্থীরাও লড়ছেন।

সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি): বিদ্রোহী প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ

এই একটি আসনে বিএনপির প্রার্থীর পাশাপাশি দলের আরেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দীন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য শহিদুল আলম।

তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, শহিদুল আলম ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির ভোট বিভক্ত (Vote Division) হবে, যা জামায়াতের প্রার্থী মুহা. রবিউল বাসারের অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। শহিদুল আলম আপিল করে তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পান এবং তিনি দাবি করেন, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর)

এই আসনে তিনজন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে প্রধান লড়াই জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম এবং বিএনপির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামানের মধ্যে। দুবারের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামের নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। অন্যদিকে নতুন মুখ মো. মনিরুজ্জামান প্রবাসী হিসেবে এলাকায় ফিরে তরুণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এস এম মোস্তফা আল মামুনও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Tags: independent candidate election campaign political culture organizational strength rebel candidate satkhira election bnp jamaat rivalry vote division vote bank