দেশের অন্নদাতা কৃষি জমি রক্ষায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গায় উর্বর ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অপরাধে দুই ব্যক্তিকে বড় অংকের জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে মহানন্দা নদীর তীরবর্তী শ্রীরামপুর এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মহানন্দার পাড়ে প্রশাসনের ঝটিকা অভিযান
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোরেই বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় অভিযানে নামে প্রশাসন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকরামুল হক নাহিদ এই ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) পরিচালনা করেন। অভিযানে দেখা যায়, একদল অসাধু চক্র মহানন্দা নদীর পাড় সংলগ্ন কৃষি জমির উর্বর উপরিভাগ বা 'Top Soil' খনন করে তা ট্রলিতে করে সরিয়ে নিচ্ছে। এই অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শামীম হোসেন মুন্সি ও শ্রীরামপুর গ্রামের মো. আলমকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
ফসলি জমি ধ্বংসের নেপথ্যে ইটভাটা সিন্ডিকেট
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই শ্রীরামপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নদীর ধারের ফসলি জমি কেটে মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় (Brick Kiln) পাচার করা হচ্ছিল। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। কৃষি জমির মাটি কাটার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তার (Food Security) জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আইন অনুযায়ী, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও এই চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল।
দৃষ্টান্তমূলক অর্থদণ্ড ও কঠোর বার্তা
আদালত পরিচালনার সময় কৃষি জমি কাটার অপরাধ স্বীকার করায় অভিযুক্ত শামীম হোসেন ও মো. আলমকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নগদ অর্থ আদায়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হওয়ার জন্য তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকরামুল হক নাহিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ফসলি জমির বুক চিরে মাটি কেটে ইটভাটায় নেয়ার খবর পাওয়া মাত্রই আমরা অভিযান চালিয়েছি। কৃষি জমি আমাদের জাতীয় সম্পদ, এটি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। যারা আইন অমান্য করে ফসলি জমি নষ্ট করবে, তাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।” তিনি আরও জানান, অবৈধ মাটি পাচার ও কৃষি জমি রক্ষায় এ ধরণের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
পরিবেশ ও কৃষি রক্ষায় সচেতনতার আহ্বান
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর পাড় ও ফসলি জমির মাটি কাটার ফলে কেবল কৃষিকাজই ব্যাহত হয় না, বরং নদী ভাঙন এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। প্রশাসনের এই তৎপরতাকে স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছে। তবে জরিমানার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি এবং অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা।