১. ঢাকা থেকে বিমান যাত্রা
ঢাকা থেকে কলম্বো পর্যন্ত বিরতিহীন ফ্লাইটে সময় লাগে তিন থেকে চার ঘণ্টা। শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, থাই এয়ারওয়েজ, ফিটস এয়ার, ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি এয়ারলাইনস বিরতি দিয়ে ও বিরতিহীন ফ্লাইট পরিচালনা করে। ভ্রমণের যত আগে টিকিট নিশ্চিত করবেন, ততই সাশ্রয়ী দামে তা কিনতে পারবেন। বিরতিহীন ইকোনমি ক্লাসের যাতায়াত খরচ সাধারণত ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
২. দর্শনীয় স্থান ও পরিকল্পনার কৌশল
ভারত মহাসাগর পরিবেষ্টিত দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। আপনি যদি সাত দিনের জন্য ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে দেশটির বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা সম্ভব। আপনার যাত্রা সমুদ্র উপকূলীয় কলম্বো ও গল থেকে শুরু করে পাহাড়ি অঞ্চল ক্যান্ডি ও নুয়ারা এলিয়ার দিকে হতে পারে, অথবা পাহাড়ি অঞ্চল ঘুরে শেষে সমুদ্র উপকূলেও আসা যেতে পারে। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতেই, আগে থেকে হোটেল-রিসোর্ট ও গাড়ির বুকিং নিশ্চিত করে যাওয়া উচিত।
৩. অভ্যন্তরীণ পরিবহণের জন্য ড্রাইভিং পারমিট
শ্রীলঙ্কায় পর্যটকদের জন্য মোটরসাইকেল, স্কুটি ও টুকটুক (অটোরিকশা বা টেম্পোর মতো বাহন) ভাড়ায় পাওয়া যায়। অনেক পর্যটক নিজেরা এসব বাহন ভাড়া করে চলাচল করতে পছন্দ করেন। তবে এর জন্য আগে থেকেই পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার যদি বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে, তবে দেশটির ওয়েবসাইটে (www.srilankabikerent.com/) আবেদন করে এই পারমিট পেতে পারেন। পারমিটের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
৪. ইটিএ বা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন গ্রহণ
শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণেচ্ছুক বিদেশি পর্যটকদের নিজ নিজ দেশ থেকে আগাম ইটিএ (Electronic Travel Authorization) বা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। এটি দুইভাবে সংগ্রহ করা যেতে পারে: শ্রীলঙ্কা সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (eta.gov.lk/slvisa) সরাসরি আবেদন করে, অথবা সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনের মাধ্যমে ভিসা আবেদন জমা দিয়ে অনুমোদন নেওয়া যাবে। বাংলাদেশে ঢাকার গুলশান ২-এ শ্রীলঙ্কার হাইকমিশন অবস্থিত।
৫. ইটিএ সংগ্রহের খরচ
অনলাইনে নিজেই ফরম পূরণ করে আন্তর্জাতিক পেমেন্টের মাধ্যমে ইটিএ করা সম্ভব। সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য এর খরচ ২০ ডলার (সঙ্গে ট্যাক্স)। যদি আপনি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট করতে না পারেন, তবে ট্রাভেল এজেন্সির সাহায্য নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশি মুদ্রায় চার্জসহ প্রায় তিন হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে দেখানোর জন্য ইটিএ-র প্রিন্ট কপি সাথে রাখা আবশ্যক।
৬. মুদ্রা বিনিময় হার এবং টিপস
বাংলাদেশি টাকার চেয়ে শ্রীলঙ্কান রুপির মূল্যমান কম। ১ মার্কিন ডলার ভাঙাতে প্রায় ১২২ টাকা খরচ হয়, যেখানে ১ মার্কিন ডলারে প্রায় ৩১০ শ্রীলঙ্কান রুপি পাওয়া যায়। সর্বোচ্চ বিনিময় হার পেতে বিমানবন্দর থেকেই আপনার ডলার ভাঙিয়ে রুপি নেওয়া উচিত।
৭. বাজেট পরিকল্পনা ও জীবনযাত্রার ব্যয়
শ্রীলঙ্কায় জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। কোনো কোনো স্থানে আধা লিটার পানির জন্য আপনাকে ৩০০ রুপি পর্যন্ত গুনতে হতে পারে। খাবারের দামও চড়া, এক বেলার সাধারণ খাবার খেতে ১ হাজার ৫০০ রুপির নিচে পাওয়া আপনার জন্য কঠিন হবে। এসব বিষয় মাথায় রেখে আপনার বাজেট পরিকল্পনা করা উচিত।
৮. আবহাওয়া ও পোশাক
নুয়ারা এলিয়ার মতো পাহাড়ি অঞ্চলে সাধারণত তাপমাত্রা কম থাকে, তাই সেখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে গরম কাপড় নিতে ভুলবেন না।
৯. ইমিগ্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
আপনি যদি চাকরিজীবী হন, তবে যাত্রার আগে অবশ্যই আপনার প্রতিষ্ঠানের এনওসি (No Objection Certificate) বা অনাপত্তি সনদ সাথে নিন। শ্রীলঙ্কায় প্রথমবার ভ্রমণ করলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আপনার আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টিও যাচাই করতে পারে। তাই ট্রাভেল আইটিনারি এবং নিশ্চিত (Confirm) হোটেল বুকিংয়ের প্রিন্ট কপি অবশ্যই সাথে রাখবেন। ইমিগ্রেশনে এই ডকুমেন্টগুলো দেখতে চাওয়া হতে পারে এবং ডকুমেন্ট ও তথ্যে মিল না থাকলে আপনাকে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
১০. ডলার এনডোর্সমেন্ট সংক্রান্ত নিয়ম
আপনার পাসপোর্টে ডলার এনডোর্স করিয়ে নিতে ভুলবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের জন্য যেকোনো মানি এক্সচেঞ্জ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার এনডোর্সমেন্ট করানো যায়। চাইলে আপনি আপনার ব্যাংক থেকেও এই এনডোর্সমেন্ট করিয়ে নিতে পারবেন। তবে, যদি কোনো দেশ উল্লেখ না করে লম্বা সময়ের জন্য এনডোর্সমেন্ট করান, তবে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত অনুমোদন নিতে পারবেন।